আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের জনপ্রিয় পর্যটন নগরী গোয়ার একটি নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে উত্তর গোয়ার আরপোরা এলাকার ‘বার্চ বাই রোমিও লেন’ (Birch by Romeo Lane) নামক নাইটক্লাবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার রাতে যখন ক্লাবটি পর্যটক ও অতিথিদের ভিড়ে জমজমাট ছিল, ঠিক তখনই রান্নাঘরে বিকট শব্দে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দমকল কর্মকর্তাদের মতে, বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো ক্লাবটি আগুনের লেলিহান শিখায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় (Engulfed)। ২০২৪ সালে চালু হওয়া এই ক্লাবটি রাজধানী পানাজি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
হতাহতের তথ্য
উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশ জানিয়েছে:
অধিকাংশই ক্লাবের রান্নাঘরের কর্মী, যাদের মধ্যে ৩ জন নারী রয়েছেন।
পার্টিতে আসা অন্তত ৩-৪ জন পর্যটকও এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতে, নিহতদের কয়েকজন আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেলেও, অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ বা ‘সাফোকেশন’-এর কারণে। রান্নাঘরের ভেতরে আটকা পড়ায় কর্মীরা বের হতে পারেননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযান ও সরকারি পদক্ষেপ
খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালায়। সব মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত আজ সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যেকোনো মূল্যে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। যারা অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতি
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ক্লাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্লাবটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ এবং গ্যাস সিলিন্ডার রক্ষণাবেক্ষণে চরম অবহেলা ছিল।
পর্যটন ও নাইটলাইফের জন্য বিখ্যাত গোয়ায় এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই ঘটনার পর রাজ্যের সব হোটেল ও ক্লাবের ফায়ার সেফটি লাইসেন্স যাচাইয়ে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।










