বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: রাজনীতিতে দীর্ঘ পথচলা, তিন তিনবার জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বর্তমানেও কোটি কোটি টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। কিন্তু শুনতে অবাক লাগলেও সত্য যে, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার ব্যাংক ব্যালেন্সে জমা আছে মাত্র ১৮০৫ টাকা! সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা তার হলফনামা থেকে এই চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে এসেছে ।
ব্যাংকে ১৮০৫ টাকা, হাতে ১৭ লক্ষ!
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি-র সন্দ্বীপ শাখায় মোস্তফা কামাল পাশার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যেখানে বর্তমানে জমা আছে মাত্র ১,৮০৫ (এক হাজার আটশত পাঁচ) টাকা । একজন সাবেক প্রভাবশালী সাংসদের ব্যাংকে এমন নগণ্য অংক দেখে অনেকেই অবাক হচ্ছেন। তবে মজার বিষয় হলো, ব্যাংকে টাকা না থাকলেও তার হাতে নগদ অর্থ হিসেবে রয়েছে ১৭,০৫,২১৭ (সতের লক্ষ পাঁচ হাজার দুইশত সতের) টাকা । অর্থাৎ, আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার চেয়ে নিজের হাতে টাকা রাখতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
‘দরিদ্র’ ব্যাংক ব্যালেন্স, সমৃদ্ধ সম্পদের পাহাড়
ব্যাংকে জমানো টাকার পরিমাণ ‘দরিদ্র’ মনে হলেও মোস্তফা কামাল পাশার স্থাবর সম্পদের খতিয়ান কিন্তু বেশ সমৃদ্ধ। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন: তার মালিকানায় রয়েছে ৭২১.৮১ শতক কৃষি জমি যার অর্জনকালীন মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা । চট্টগ্রাম শহরের আইস ফ্যাক্টরী রোডে রয়েছে ৪টি ফ্ল্যাট ও ৫টি দোকান, যার অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা । সন্দ্বীপের রহমতপুরে রয়েছে একটি দুই তলা ভবন ।
তার মোট স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে তিনি উল্লেখ করেছেন ।
সন্দ্বীপের এই হেভিওয়েট প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা এস.এস.সি (SSC) । দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে নিজের পেশা হিসেবে ‘নিজ পুকুরের মৎস্য চাষ ও সমাজ সেবা’র কথা উল্লেখ করেছেন । এছাড়া তার মালিকানায় ১৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মাইক্রোবাস এবং ৩২ বোরের একটি রিভলবারও রয়েছে ।
১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই নেতা হলফনামায় স্বীকার করেছেন যে, অতীতে ভোটারদের দেওয়া তার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি পূরণ হয়নি। বিশেষ করে যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মাত্র ৫০% বাস্তবায়িত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন ।
ব্যাংক ব্যালেন্সের এই ‘বিস্ময়কর’ তথ্য আর বিশাল সম্পদের পাহাড়—সব মিলিয়ে সন্দ্বীপের ভোটারদের মুখে মুখে এখন মোস্তফা কামাল পাশার হলফনামার গল্প। ভোটাররা রসিকতা করে বলছেন, “তিন মেয়াদের এমপি সাহেবের পকেট গরম থাকলেও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিন্তু বেশ ঠান্ডা!”










