Home চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানীর ‘গলা টিপে ধরছে’ প্লাস্টিক ও দখলদারিত্ব

বাণিজ্যিক রাজধানীর ‘গলা টিপে ধরছে’ প্লাস্টিক ও দখলদারিত্ব

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি,চট্টগ্রাম: দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী এবং বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। পাহাড়, নদী আর সাগরের মিতালীতে গড়া এই শহরটি এখন এক ভিন্ন কারণে আলোচনায়—তা হলো ‘দখল ও দূষণ’। বায়েজিদ থানা এলাকার মাইজপাড়ার একটি নালার সাম্প্রতিক চিত্র দেখলে মনে হতে পারে, এটি কোনো পানি চলাচলের পথ নয়, বরং পরিত্যক্ত প্লাস্টিক আর ময়লা-আবর্জনার এক ভাগাড়।
সরেজমিনে দেখা যায়,  এই নালাটির ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা। ইটের দেয়াল তুলে নালার জায়গাকে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, নালার বুকজুড়ে জমা হয়ে আছে প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন আর গৃহস্থালি বর্জ্য। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে নালাটি এখন একটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে কোনো নজরদারি নেই। ফলে দখলদারেরা বুক ফুলিয়ে নালার ওপর ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করে চলেছে।
যা বলছেন অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ–
নালাটির পাশের এলাকার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “এক সময় এই নালা দিয়ে স্বচ্ছ পানি যেত। এখন বৃষ্টি হলে তো দূরের কথা, সাধারণ সময়েও দুর্গন্ধের জন্য ঘরে টেকা যায় না। একটু বৃষ্টি হলেই ময়লা পানি উপচে আমাদের ঘরে ঢুকে পড়ে। ড্রেন তো না, এটা এখন বিষাক্ত এক ডোবা।”
পোশাক কারখানায় কর্মরত শ্রমিক রহিমা খাতুন বলেন, “সিটি কর্পোরেশনের লোকজনকে কোনোদিন এই নালা পরিষ্কার করতে দেখিনি। ড্রেনের ওপর যেভাবে ঘর তোলা হয়েছে, তাতে কিছুদিন পর ম্যাপ থেকেও এই নালার অস্তিত্ব মুছে যাবে।”
পরিবেশবাদী সংগঠনের এক কর্মী জানান, এই দূষণ কেবল একটি এলাকার সমস্যা নয়। এই ময়লাগুলো শেষ পর্যন্ত কর্ণফুলী নদী হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশছে, যা দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনছে।
উন্নয়নের অন্তরালে অন্ধকারের ছাপ: চট্টগ্রামকে ‘স্মার্ট সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবচিত্র বলছে ভিন্ন কথা। একটি শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা যদি এভাবে পলিথিনের স্তূপ আর দখলের কবলে পড়ে থাকে, তবে সামান্য বর্ষাতেই পুরো শহর তলিয়ে যাওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। বায়েজিদ থানার শেরশাহ মাইজপাড়া এলাকার এই খণ্ডচিত্রটি পুরো চট্টগ্রামের অসংখ্য অবহেলিত নালার একটি ক্ষুদ্র উদাহরণ মাত্র।
উদ্ধার ও পরিষ্কারের দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে, অচিরেই এই নালাটি মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং তার খেসারত দিতে হবে সাধারণ নগরবাসীকে।