বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: তফসিল অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র ২০ দিন। এই স্বল্প সময়ে সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে ভোটের হাওয়া তুঙ্গে উঠেছে। মর্যাদাপূর্ণ সিলেট-১ আসনসহ বিভাগের অধিকাংশ আসনেই এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মাঠের উত্তাপ কেবল প্রার্থীদের প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ নেই, দীর্ঘ সময় পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও গভীর পর্যবেক্ষণ।
মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা
সিলেটের ছয়টি আসনে এবার মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত বৃহস্পতিবার প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে নির্বাচনী প্রচারণার ডাক দেওয়ার পর থেকেই পুরো বিভাগে রাজনৈতিক আবহ বদলে গেছে।
১৭ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রতিশ্রুতির ডালি সাজাচ্ছেন প্রার্থীরা।
সরেজমিনে সাধারণ ভোটারদের ভাবনা
নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ও আম্বরখানা এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে বিমিশ্র প্রতিক্রিয়া।
পরিবর্তনের প্রত্যাশা: নগরীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তরুণ ভোটার আহসান হাবীব বলেন, “আমরা অনেক বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। এবার শুধু প্রতীকের দিকে তাকিয়ে ভোট দেব না। যিনি সিলেটের জলাবদ্ধতা দূর করবেন এবং কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করবেন, তাকেই বেছে নেব।”
নিরাপত্তার শঙ্কা ও আশা: বন্দরবাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন জানান, “ভোটের আমেজ তো আছেই, কিন্তু আমাদের ভয় হচ্ছে বিশৃঙ্খলা নিয়ে। তবে যদি শান্তিপূর্ণ ভোট হয়, তবে এবার মানুষ মনের সুখে ভোটকেন্দ্রে যাবে।”
উন্নয়নের প্রশ্ন: রিকশাচালক করিম মিয়া বলেন, “সবাই তো প্রতিশ্রুতি দেয়। ভোটের পর আর কাউরে পাওয়া যায় না। এবার আমাগো দাবি—রাস্তাঘাটের উন্নয়ন আর জিনিসপত্রের দাম কমানোর ব্যবস্থা যে করবে, ভোট তারই।”
বিদ্রোহী প্রার্থীর চাপ ও দলীয় কৌশল
নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও দলটির বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় সিলেট বিভাগের পাঁচ জন বিএনপি নেতাকে ইতিমধ্য়ে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই বিভক্তি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি করছে। অন্যদিকে, জামায়াত ও বিএনপির মধ্যেকার ভোট ভাগাভাগি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও চলছে নানা সমীকরণ।
লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি
সিলেটের ৬টি আসনের চিত্র একনজরে:
সিলেট-১: এখানে মূল লড়াই হবে বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বনাম জামায়াতের মাওলানা হাবীবুর রহমানের মধ্যে।
সিলেট-২: নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদি লুনা এখানে বিভাগের একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
অন্যান্য আসন: সিলেট-৩ আসনে ৬ জন এবং ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসনেও প্রার্থীরা যার যার কৌশলে ভোটার টানার চেষ্টা করছেন।
প্রার্থীরা যা বলছেন
সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে বলেন, “জলাবদ্ধতা নিরসন ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে ধানের শীষের জয় প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমান বলেন, “লুটতরাজ থেকে দেশকে বাঁচাতে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।”
সাধারণ ভোটারদের মতে, প্রার্থীদের বাগাড়ম্বরপূর্ণ প্রতিশ্রুতির চেয়ে এবার বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনাই ভোটের ময়দানে ব্যবধান গড়ে দেবে। এখন দেখার বিষয়, ২০ দিন পর সিলেটের ভোটাররা কাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন।