কৃষ্ণা বসু, কলকাতা: বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই অভিযুক্তকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (STF) শনিবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁদের আটক করে। ধৃতরা হলেন মামলার প্রধান আসামি রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন।
রবিবার (৮ মার্চ) ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI) এবং এসটিএফ-এর পৃথক বিবৃতিতে এই গ্রেফতারির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। আদালত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
- সীমান্তে অভিযান: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসটিএফ বনগাঁর একটি গোপন আস্তানায় হানা দেয়। পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তরা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন।
- অনুপ্রবেশের পথ: প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা স্বীকার করেছেন যে, হাদিকে হত্যার পর তাঁরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁরা বনগাঁ এলাকায় আত্মগোপন করেন।
- পুলিশি পদক্ষেপ: ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় ৩২ বছর বয়সী তরুণ নেতা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় একদল দুষ্কৃতী। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ব্যাপক উত্তেজনা ও সহিংসতার সৃষ্টি হয়েছিল। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শেষে যে চার্জশিট জমা দিয়েছিল, সেখানে ফয়সাল এবং আলমগীরকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করে আসছিল যে অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়েছেন। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF) এবং মেঘালয় পুলিশ অনুপ্রবেশের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকার কথা জানিয়েছিল। তবে বনগাঁয় এই গ্রেফতারির পর তদন্তে নতুন মোড় এল।










