মালদ্বীপের আলিফ দাল (ADh) দিঘুরা দ্বীপে একটি শ্রমিক আবাসন ব্লকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মর্মান্তিক এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে মালদ্বীপের পুলিশ ও হিউম্যান রাইটস কমিশন (HRCM) পৃথক তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ২টার দিকে তারা দিঘুরা দ্বীপের একটি প্রবাসী আবাসন ব্লকে আগুনের খবর পায়। দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে আহত ৮ জনকে দিঘুরা হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জন মারা যান। গুরুতর দগ্ধ আরও দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী মালেতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
দিঘুরা কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম উসমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে আবাসন ব্লকের রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকাটি জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে ফরেনসিক তদন্ত চালাচ্ছে।
এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে মালদ্বীপের হিউম্যান রাইটস কমিশন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে কমিশন জানায়:
তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ঘটনার পেছনে কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন বা অবহেলার বিষয় জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এই ধরনের ট্র্যাজেডি রোধে প্রবাসী কর্মীদের আবাসন ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন জানিয়েছে, তারা নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। তবে ওই ভবনে মোট কতজন শ্রমিক বাস করতেন এবং ভবনটি কোন কোম্পানির মালিকানাধীন ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিমসহ বিশেষ তদন্ত দল বর্তমানে দিঘুরা দ্বীপে অবস্থান করছে।