Home First Lead সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’: প্রটোকল ভেঙে জনসেবার নতুন বার্তা

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’: প্রটোকল ভেঙে জনসেবার নতুন বার্তা

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে আগমনের অর্থ হলো কড়া নিরাপত্তা আর পূর্বনির্ধারিত বৈঠক। কিন্তু রবিবারের সকালটি ছিল ব্যতিক্রম। লিফট ব্যবহার না করে পায়ে হেঁটে ছয় তলা পর্যন্ত ওঠা এবং দপ্তরে দপ্তরে গিয়ে নিজে কড়া নাড়ার বিষয়টি প্রশাসনের চিরচেনা ‘আমলাতান্ত্রিক দূরত্ব’ কমিয়ে আনার একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই আকস্মিক পরিদর্শনের পেছনে তিনটি প্রধান দিক পরিলক্ষিত হয়, সেগুলো হলো–
জবাবদিহিতার সংস্কৃতি তৈরি: ৯টা ৫ মিনিটে অনেক দপ্তর যখন ‘আড়মোড়া ভাঙছে’, তখন খোদ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি কর্মচারীদের মনে এই বার্তাই পৌঁছে দিয়েছে যে—সতর্কতা কেবল ফাইলে নয়, সময়ের ঘড়িতেও থাকা চাই।
সম্পদ সংরক্ষণে ব্যক্তিগত সচেতনতা: কেবল আদেশ জারি না করে প্রধানমন্ত্রী নিজেই যখন জানালার পর্দা সরিয়ে দিনের আলোর ব্যবহারের পরামর্শ দেন বা এসির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কথা বলেন, তখন তা সরাসরি ‘লিডিং বাই এক্সাম্পল’ বা দৃষ্টান্ত স্থাপনের পর্যায়ে পড়ে।
মনস্তাত্ত্বিক সংযোগ: কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে হাত মেলানো এবং কুশল বিনিময় করার মাধ্যমে পদের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে একটি মানবিক ও দেশপ্রেমিক বোধ জাগ্রত করার চেষ্টা দেখা গেছে। তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে—”দেশটি আমাদের সবার।”

পরিদর্শনের মূল ঘটনাক্রম
বিষয় বিবরণ
সময় ও স্থান সকাল ৯:০৫ মিনিট, সচিবালয় (ভবন ৩, ৫ ও ৬)
বিশেষ বৈশিষ্ট্য কোনো লিফট ব্যবহার করেননি; ৬ তলা পর্যন্ত পায়ে হেঁটে পরিদর্শন।
মন্ত্রণালয়সমূহ বিদ্যুৎ, মৎস্য, পানিসম্পদ, নারী ও শিশু, শিক্ষা, গণপূর্ত, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য।
প্রধান বার্তা বিদ্যুতের সাশ্রয়, আসবাবপত্রের যত্ন এবং নির্ধারিত সময়ে অফিস উপস্থিতি।

“সরকারি সম্পদ মানে দেশের সম্পদ—এই সম্পদ সকলকে যত্ন করে রাখতে হবে।” >

তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রী (পরিদর্শনকালে প্রদত্ত বক্তব্য)

প্রশাসনিক গতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর এই ‘বিরামহীন কর্মতৎপরতা’ সচিবালয়ের চেনা চিত্র বদলে দিচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি এবং শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সময়মতো উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ওপর মহলের সদিচ্ছা থাকলে প্রশাসনের নিচের স্তরেও তার প্রভাব পড়ে দ্রুত।
এই সফরের পর ধারণা করা হচ্ছে, এখন থেকে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে আরও কঠোর তদারকি শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ‘হেঁটে দপ্তর পরিদর্শন’ আমলাতন্ত্রের জড়তা কাটাতে কতটুকু কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।