Home আন্তর্জাতিক ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তোড়জোড়: সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ ইরানের

ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তোড়জোড়: সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও অস্থিরতা নিরসনে এক নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। গত রাতে (২৪ এপ্রিল) ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল আজ পাকিস্তানের পথে রয়েছেন।
আলোচনার মূল প্রেক্ষাপট
গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই বড় কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ। এর আগে গত ১১-১২ এপ্রিল দুই দেশের প্রতিনিধিরা পাকিস্তানে বৈঠকে বসলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। সেই অচলাবস্থা কাটাতে এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তান পুনরায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
ইরানের কঠোর অবস্থান
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আজ সকালে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে তাদের সরাসরি কোনো আলোচনার পরিকল্পনা নেই। আরাগচি বর্তমানে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছেন। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের দাবি ও প্রস্তাবগুলো পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের জানাবে এবং পাকিস্তানই তা ‘ব্রিজ’ বা সংযোগকারী হিসেবে মার্কিন পক্ষের কাছে পৌঁছে দেবে।
মার্কিন উদ্যোগ
হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিরা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখোমুখি বসার বিষয়ে ইতিবাচক। ট্রাম্প প্রশাসন আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে সরাসরি আলোচনা না হলেও সমঝোতার পথে অন্তত এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সমুদ্রপথ অবরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীতে কড়াকড়ির কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তা নিরসন করাই এই সফরের প্রধান লক্ষ্য।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরকে ‘আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার একটি বড় সুযোগ’ হিসেবে দেখছে। ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেল এবং রেড জোনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাকিস্তান বর্তমানে দুই পক্ষের বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে একটি ত্রিমুখী আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববাসীর নজর এখন ইসলামাবাদের দিকে। সরাসরি আলাপ না হলেও পরোক্ষ এই আলোচনা কি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে, নাকি নতুন কোনো অচলাবস্থার সৃষ্টি করবে—তা আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিষ্কার হতে পারে।