আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৪৪৭ হিজরি (২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ) সালের পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের সৌদি আরবে আগমন শুরু হয়েছে।বর্তমানে প্রতিদিন মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটে হাজিরা অবতরণ করছেন।
আকাশপথের সর্বশেষ তথ্য
মদিনা ও জেদ্দা রুট: প্রথম পর্যায়ের ফ্লাইটগুলো মূলত মদিনায় অবতরণ করছে, যাতে হাজিরা হজের আগে মসজিদে নববিতে ইবাদত ও রাসুল (সা.)-এর রওজা জিয়ারত সম্পন্ন করতে পারেন।জেদ্দা রুটের ফ্লাইটগুলো গত ৪ মে থেকে পূর্ণোদমে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ: বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো এবং তুরস্কসহ ১০টি দেশের হাজিরা ‘মক্কা রুট’ সুবিধার আওতায় আসছেন।এই ব্যবস্থার ফলে হাজিদের নিজ দেশের বিমানবন্দরেই সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয়ে যাচ্ছে, ফলে জেদ্দা বা মদিনায় পৌঁছে তাদের আর দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।
ফ্লাইট সংখ্যা: প্রতিদিন প্রায় ৩০টিরও বেশি বিশেষ হজ ফ্লাইট বিভিন্ন দেশ থেকে সৌদি আরবে অবতরণ করছে।
স্থলপথের আপডেট
আকাশপথের পাশাপাশি স্থলপথেও হাজিদের কাফেলা সৌদি আরবে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।
ইরাকি হজযাত্রী: গত ২৬ এপ্রিল থেকে উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের জাদিদাত আরার (Jadidat Arar) সীমান্ত দিয়ে ইরাকি হাজিদের বড় কাফেলা সৌদি আরবে প্রবেশ করেছে।
ব্যবস্থাপনা: স্থলপথের হাজিদের জন্য সীমান্তে আধুনিক পাসপোর্ট কাউন্টার, মোবাইল বায়োমেট্রিক ডিভাইস এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যাতে দ্রুততম সময়ে তারা প্রবেশ করতে পারেন।
সৌদি সরকারের প্রস্তুতি ও বিশেষ সুবিধা
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর হাজিদের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।
মোবাইল পাসপোর্ট কাউন্টার: ভিড় এড়াতে বিমানবন্দর ও সীমান্তগুলোতে মোবাইল পাসপোর্ট কাউন্টার মোতায়েন করা হয়েছে।
নুসুক কার্ড ও অ্যাপ: হাজিদের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র বা ‘নুসুক কার্ড’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি পবিত্র স্থানগুলোতে যাতায়াত সহজ করবে।
নিরাপত্তা কড়াকড়ি: ১৩ এপ্রিল থেকে মক্কায় প্রবেশের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বৈধ হজ পারমিট ছাড়া কাউকেই মক্কায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশের হাজিদের অবস্থা
বাংলাদেশ থেকে প্রথম হজ ফ্লাইট ১৮ এপ্রিল ২০২৬-এ জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে। এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করার কথা রয়েছে।
এ বছর প্রায় ২০ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র হজ পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।