Home First Lead বিপিসি সদর দপ্তর চট্টগ্রামেই থাকবে: অর্থমন্ত্রী

বিপিসি সদর দপ্তর চট্টগ্রামেই থাকবে: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সাথে মেহেদিবাগের বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন চিটাগাং চেম্বারের নব নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে আছে, চট্টগ্রামেই থাকবে বলে ব্যবসায়ী নেতাদের নিশ্চিত করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর মেহেদীবাগে মন্ত্রীর বাসভবনে চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে তিনি এই আশ্বাস দেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর সঙ্গে নতুন চেম্বার নেতৃত্বের এটিই ছিল প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৬ মে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী একটি জরুরি ও জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশে তিনি জনস্বার্থে বিপিসির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠুভাবে কার্যসম্পাদনের লক্ষ্যে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম থেকে প্রশাসনিক রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের প্রকাশ্য আবেদন জানান। একই সঙ্গে তিনি ঢাকায় বিপিসির একটি স্বতন্ত্র ও নিজস্ব বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করার কথাও বলেন।

সাধারণত যেকোনো জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশ বা প্রস্তাবনার ওপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় ও অংশীজনদের সাথে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার নিয়ম থাকলেও, বিপিসির ক্ষেত্রে তা ঘটেছে অলৌকিক গতিতে। সংসদ সদস্যের নোটিশ প্রদানের মাত্র ছয় দিনের মাথায়, অর্থাৎ ১২ মে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি আমলে নিয়ে বিপিসির চেয়ারম্যানকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন। এরপর থেকেই মূলত আড়ালে-আবডালে থাকা স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি ‘বিদ্যুৎ গতিতে’ ডানা মেলতে শুরু করে।

১৯৯০ সালে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গুরুত্ব দিতে এবং জ্বালানি খাতের মূল অবকাঠামো কাছাকাছি রাখতে বিপিসি চট্টগ্রামে আনা হয়। কিন্তু গত ৩৫ বছর ধরে সংস্থাটির বড় বড় কর্মকর্তারা নানা অজুহাতে ঢাকাতেই লিয়াজোঁ অফিস বা অন্য কোনো নাম দিয়ে অবস্থান করে আসছিলেন। দেড় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই বৈঠকে চিটাগাং চেম্বারের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ ঢাকামুখী এই চক্রান্ত ও বিপিসি সদর দফতর চট্টগ্রামে রাখার যৌক্তিকতা তুলে ধরে জোর দাবি জানান। ব্যবসায়ীদের এই দাবির প্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিপিসির প্রধান কার্যালয় কোনোভাবেই ঢাকায় স্থানান্তর করা হবে না, এটি চট্টগ্রামেই থাকবে।

ওজন স্কেলে বৈষম্য দূর করার তাগিদ

চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের বড়দারোগাহাট এলাকায় পণ্য পরিবহনের ওজন স্কেল (ওয়েইং স্কেল) নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের জটিলতার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের বাণিজ্য সচল রাখতে চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ীরা যেন কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার না হন, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে।

 বৈঠকে চেম্বার নেতৃবৃন্দ বন্দর নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামো সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের নেতৃত্বে নবনির্বাচিত ২৪ জন পরিচালকই এই  বৈঠকে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মে অনুষ্ঠিত চিটাগাং চেম্বার নির্বাচনে ইউনাইডেট বিজনেস ফোরামের প্যানেল থেকে ২৪ জন পরিচালকই নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২৫ মে নতুন প্রেসিডিয়াম গঠন করা হয়।

Visit www.businesstoday24.com