Home পণ্যবাজার স্বর্ণের দামে বড় পতন: ভরিতে কমল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা

স্বর্ণের দামে বড় পতন: ভরিতে কমল প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টাকা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের বাজারে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য হ্রাস পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে দেশের বাজারে মানভেদে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা পর্যন্ত নেমে এসেছে। আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম দেশব্যাপী কার্যকর করা হয়েছে।
বাজুস সূত্রে জানা গেছে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মূল্য নির্ধারণ কমিটি এই দর সমন্বয় করেছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা।
এর আগে গত ২ জুনের সর্বশেষ সমন্বয়ে এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ words ৮৫৫ টাকা। সেই তুলনায় এবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমলো।
অন্যান্য ক্যারেটের মধ্যে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, যা আগে ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকায়।
এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা, যা আগের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা থেকে ৩ হাজার ৬১৬ টাকা কম।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, বিশ্ববাজারে ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক পণ্য বাজারে স্বর্ণের চাহিদার পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি দেশীয় বাজারে পড়ছে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে দামের বড় ধরনের সংশোধনের ফলে স্থানীয় বাজারেও তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ ও মূল্যে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ওঠানামার ক্ষেত্রে এক রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৭১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৭ বার এবং কমানো হয়েছে ৩৪ বার।
 ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দামের পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার মূল্য বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ঘন ঘন এই দাম সমন্বয়ের ফলে দেশের অলঙ্কার শিল্পে এক ধরনের অস্থিরতা যেমন বিরাজ করছে, তেমনি ক্রেতাদের মধ্যেও বাজার পরিস্থিতি বুঝে কেনাকাটা করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে দেশীয় বাজারে দ্রুত দাম সমন্বয় করার এই প্রক্রিয়া চোরাচালান রোধ এবং স্থানীয় বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।