বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন যাত্রী, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ওসমানীনগর উপজেলার সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের দয়ামীর ও কাশিকাপন এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে সিলেটগামী ‘বেঙ্গল পরিবহন’-এর একটি স্লিপার কোচ এবং সিলেট থেকে ঢাকাগামী ‘ইউনিক পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে তীব্র গতিতে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই বিকট ও শক্তিশালী ছিল যে, ইউনিক পরিবহনের বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে মহাসড়কের পাশে থাকা গভীর খাদে পড়ে যায় এবং বেঙ্গল পরিবহনের সামনের অংশ সম্পূর্ণ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ, শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকেই ইউনিক পরিবহনের ৭ যাত্রীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর আহত তিন বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উদ্ধারকর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় বাসের ভেতরে আটকে থাকা আহতদের বের করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ও বিভিন্ন যানবাহনে করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা করেন। আহতদের অনেকের হাত-পা ভেঙে যাওয়া এবং মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনার বিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও হাইওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তাৎক্ষণিকভাবে ঘাতক বাস দুটিকে সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। নিহতদের অনেকেরই মরদেহ পরিচয় শনাক্তকরণের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মহাসড়কে বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা থেকেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। ঘটনাটি তদন্তে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।