এভিয়েশন ডেস্ক:
গত বছর মে মাসে ভারতের সাথে চার দিনের রক্তক্ষয়ী আকাশযুদ্ধের পর পাকিস্তানের দেশীয় সামরিক শিল্পের প্রেক্ষাপট আমূল বদলে গেছে। সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের গর্ব জেএফ-১৭ থান্ডার (JF-17 Thunder) ব্লুক-৩ যুদ্ধবিমানের অভাবনীয় সাফল্য এখন আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদার সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের পর এবার বিশ্ববাজার দখলে নেমেছে পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স (PAC) ও চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই যুদ্ধবিমান।
রণক্ষেত্রের সেই ‘গেম চেঞ্জার’ পারফরম্যান্স
২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত চার দিনের বিমান যুদ্ধে জেএফ-১৭ থান্ডার প্রথমবারের মতো পূর্ণ মাত্রায় নিজের শক্তি প্রদর্শন করে। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমান ভারতের আদামপুরে মোতায়েনকৃত রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক এস-৪০০ (S-400) মিসাইল সিস্টেম ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল।
যদিও ভারত এই দাবি অস্বীকার করেছে, তবে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জেএফ-১৭-এর হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা এবং শক্তিশালী রাডার সিস্টেম (AESA) দক্ষিণ এশিয়ার আকাশযুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিয়েছে।
বিশ্ববাজারের শীর্ষ গ্রাহক ও বিলিয়ন ডলারের চুক্তি
যুদ্ধের সফলতার পর একের পর এক দেশ এই যুদ্ধবিমান সংগ্রহের সারিতে দাঁড়াচ্ছে। গত কয়েক মাসে হওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু আলোচনা ও চুক্তি হলো:
সৌদি আরব: পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বর্তমানে ৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল সমরাস্ত্র চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে সৌদি আরবের দেওয়া ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণকে যুদ্ধবিমানে রূপান্তরের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আজারবাইজান: ইতোমধ্যে আজারবাইজানের সাথে ৪.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ৪০টি জেএফ-১৭ ব্লুক-৩ বিমান সরবরাহ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ: চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফরকালে জেএফ-১৭ ক্রয়ের বিষয়ে ‘বিস্তারিত আলোচনা’ হয়েছে। পাকিস্তান দ্রুত ডেলিভারির পাশাপাশি সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ সহায়তারও নিশ্চয়তা দিয়েছে।
ইরাক ও লিবিয়া: ইরাকি বিমান বাহিনী প্রধান জেএফ-১৭-এর প্রতি ‘গভীর আগ্রহ’ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, লিবিয়ার সাথেও কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি সামরিক চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে, যাতে এই যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ গত সপ্তাহে একটি টিভি সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “আমাদের বিমানগুলো এখন হটকেকের মতো বিক্রি হচ্ছে। যুদ্ধের ময়দানে এর কার্যকারিতা পরীক্ষিত হওয়ায় আমরা এত বেশি অর্ডার পাচ্ছি যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পাকিস্তানের হয়তো আর আইএমএফ-এর (IMF) ঋণের প্রয়োজন পড়বে না।”
কেন এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জেএফ-১৭-এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ তিনটি: ১. সাশ্রয়ী মূল্য: মার্কিন এফ-১৬ বা ইউরোপীয় রাফালের তুলনায় এর দাম অনেক কম। ২. উন্নত প্রযুক্তি: ব্লুক-৩ ভেরিয়েন্টে আধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের সব বৈশিষ্ট্য (যেমন- ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম ও দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল) রয়েছে। ৩. রাজনৈতিক শর্তহীনতা: পশ্চিমা দেশগুলোর মতো অস্ত্র বিক্রিতে কোনো কঠোর রাজনৈতিক শর্ত না থাকায় উন্নয়নশীল দেশগুলো এর প্রতি বেশি আগ্রহী।
এক সময় যে বিমানকে কেবল ‘বাজেট ফাইটার’ মনে করা হতো, ২০২৫ সালের মে মাসের সংঘাত সেটিকে ‘ব্যাটল প্রুভেন’ বা যুদ্ধ-পরীক্ষিত বিমানে পরিণত করেছে। এই সাফল্যের ওপর ভর করেই পাকিস্তান এখন বিশ্ব অস্ত্র রফতানি বাজারে নিজেদের বড় খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
A close look at Pakistan’s JF-17 aircraft এই ভিডিওটি পাকিস্তান এবং লিবিয়ার মধ্যবর্তী বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তির ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব এবং জেএফ-১৭-এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রদান করে।










