Home আকাশ পথ ‘মে-ডে’ বার্তার পরই নিথর বিমান: মেঘানিগরে মৃত্যুপুরী

‘মে-ডে’ বার্তার পরই নিথর বিমান: মেঘানিগরে মৃত্যুপুরী

এভিয়েশন ডেস্ক:

আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের উদ্দেশে উড্ডয়ন করা এয়ার ইন্ডিয়ার AI171 ফ্লাইটটি উড্ডয়নের মাত্র ১৯ মিনিট পরই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। গুজরাটের মেঘানিগর এলাকায় ভেঙে পড়ে এই ড্রিমলাইনার বিমানটি। প্রাথমিক হিসাবে বিমানে থাকা ২৩০ জন যাত্রীসহ মোট ২৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় মেঘানিগরের বেশ কয়েকটি বহুতল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশনের (ডিজিসিএ) প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, বিমানটি উড্ডয়নের পর স্বাভাবিক গতিতে উপরে উঠলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। ৬২৫ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে যাওয়ার পর থেকেই বিমানটি স্থিতিশীল না থেকে একপ্রকার দুলতে থাকে, এবং ক্রমশ নীচের দিকে নামতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিমানের সামনের অংশ উপরের দিকে ওঠা অবস্থায় এর লেজভাগ নিচে ঝুঁকে পড়ে, যা থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

কী এই ‘মে-ডে’ বার্তা?

জরুরি পরিস্থিতিতে পাইলটরা যখন বিপদের মুখোমুখি হন এবং অবিলম্বে সাহায্য প্রয়োজন হয়, তখন তারা “Mayday, Mayday” শব্দটি বারবার উচ্চারণ করে রেডিও বার্তা পাঠান। এই বার্তা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি আপৎকালীন সংকেত। শব্দটি এসেছে ফরাসি শব্দ “m’aidez” থেকে, যার অর্থ “আমাকে সাহায্য করুন।” এ ধরনের বার্তা সাধারণত তীব্র বিপর্যয়, যেমন ইঞ্জিন বিকল, আগুন, হঠাৎ ডিপ্রেসারাইজেশন বা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলার সময় পাঠানো হয়।

AI171 এর পাইলটও শেষ মুহূর্তে এই ‘মে-ডে’ বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে সেই সংকেত পাঠানোর অল্প সময় পর থেকেই বিমানটি রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) তখন আর বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি। এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ

ডিজিসিএ সূত্রে জানা গেছে, বিমানের ব্ল্যাকবক্স ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডার ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। সেগুলোর বিশ্লেষণেই জানা যাবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল। প্রশ্ন উঠছে, এই অত্যাধুনিক ড্রিমলাইনারে উড্ডয়নের আগে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল কি না।

এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকেও এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা ঘটনার তদন্তে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিমানবন্দরে ভিড় জমায় আত্মীয়স্বজন ও স্বজনরা। কেউ কেউ বিমানবন্দরের সামনে মূর্ছা যান, কেউ আবার প্রশাসনের কাছে ক্ষোভ উগরে দেন। আহমেদাবাদ এবং দিল্লিতে স্থাপন করা হয়েছে হেল্পডেস্ক।