Home অন্যান্য প্রেম, অর্থ ও বিশ্বাসঘাতকতা: স্পেনের রাজতন্ত্র কাঁপানো কার্লোস-লারসেন কেলেঙ্কারি

প্রেম, অর্থ ও বিশ্বাসঘাতকতা: স্পেনের রাজতন্ত্র কাঁপানো কার্লোস-লারসেন কেলেঙ্কারি

ফিচার প্রতিবেদন 

স্পেনের রাজতন্ত্রের ইতিহাসে রাজা জুয়ান কার্লোস একসময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন, কিন্তু কোরিনা লারসেনের সাথে তার সম্পর্ক এবং আর্থিক কেলেঙ্কারি সেই ভাবমূর্তি পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়। এই ঘটনার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো:
সম্পর্কের শুরু ও বতসোয়ানা বিতর্ক
জার্মান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী নারী কোরিনা লারসেনের সাথে রাজা জুয়ান কার্লোসের পরিচয় হয় ২০০৪ সালে। দীর্ঘ সময় তাদের মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় ছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২০১২ সালে একটি বতসোয়ানা শিকার অভিযানের মাধ্যমে। স্পেনে যখন ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল, তখন রাজা কোরিনাকে নিয়ে গোপনে বতসোয়ানায় হাতি শিকার করতে যান। সেখানে রাজা পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার পর তাদের গোপন সফরের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়, যা স্পেনের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ও ৬৫ মিলিয়ন ইউরো
এই কেলেঙ্কারি কেবল ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অভিযোগ ওঠে যে, সৌদি আরবের একটি হাই-স্পিড রেল প্রকল্প পাইয়ে দেওয়ার মধ্যস্থতা হিসেবে রাজা জুয়ান কার্লোস প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার কমিশন পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে জানা যায়, রাজা সেই অর্থের একটি বড় অংশ (প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ইউরো) কোরিনা লারসেনের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন। লারসেনের দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল রাজার পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া একটি উপহার, কিন্তু তদন্তকারী সংস্থাগুলোর মতে এটি ছিল অর্থ পাচারের একটি অংশ।
কোরিনা লারসেনের মামলা ও হয়রানির অভিযোগ
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর কোরিনা লারসেন অভিযোগ করেন যে, রাজা তার দেওয়া অর্থ ফেরত পেতে তাকে এবং তার পরিবারকে স্প্যানিশ গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ভয়ভীতি ও হয়রানি করছেন। এই বিষয়টি নিয়ে লন্ডনের আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। লারসেনের সাক্ষ্য এবং ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপগুলো রাজার দুর্নীতির চিত্র জনসমক্ষে নিয়ে আসে।
সিংহাসন ত্যাগ ও নির্বাসন
ক্রমবর্ধমান জনরোষ এবং আইনি চাপের মুখে ২০১৪ সালে জুয়ান কার্লোস তার পুত্র ষষ্ঠ ফিলিপের কাছে সিংহাসন ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। কিন্তু এরপরও তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত থামেনি। ২০২০ সালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে স্পেনের রাজতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষার্থে তিনি দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে চলে যান।
রাজতন্ত্রের ওপর প্রভাব এই কেলেঙ্কারি স্পেনের রাজপরিবারকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটে ফেলে দেয়। বর্তমান রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ তার বাবার ব্যক্তিগত সম্পদ এবং উত্তরাধিকার ত্যাগের ঘোষণা দেন যাতে রাজতন্ত্রকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য রাখা যায়। তবে কোরিনা লারসেনের সাথে এই বিতর্ক স্পেনের ইতিহাসে এক অমীমাংসিত কলঙ্ক হিসেবে রয়ে গেছে।