বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি গোল্ডেন সন লিমিটেড বর্তমানে এক ভয়াবহ আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানিটি গত কয়েক বছর ধরে লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, উল্টো লোকসানের পাল্লা ক্রমান্বয়ে ভারী করছে।
আর্থিক পারফরম্যান্সে ধস
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসই সূত্রে পাওয়া কোম্পানিটির বার্ষিক উপার্জনের চিত্র (EPS) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২১ সাল থেকে এটি ক্রমাগত পতনের দিকে যাচ্ছে। ২০২১ সালে ইপিএস যেখানে ছিল ০.৩০ টাকা, ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় -০.২৯ টাকায়। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে ২০২৫ সালে, যখন বার্ষিক লোকসান গিয়ে দাঁড়ায় -১.৮৩ টাকায়। এমনকি চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) সম্মিলিতভাবে -১.০৩ টাকা লোকসান করেছে কোম্পানিটি, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
ঋণের পাহাড়ে চাপা
গোল্ডেন সন লিমিটেডের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো এর অস্বাভাবিক ঋণের পরিমাণ। ৩০ জুন ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির স্বল্পমেয়াদী ঋণের পরিমাণ ২১৩৫.৩৪ মিলিয়ন টাকা এবং দীর্ঘমেয়াদী ঋণের পরিমাণ ২৬০৭.২৭ মিলিয়ন টাকা। এই বিপুল পরিমাণ ঋণের বিপরীতে সুদ পরিশোধ করতে গিয়েই কোম্পানিটির মুনাফার একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে, যার প্রতিফলন ঘটছে নেতিবাচক নিট মুনাফায়।
সম্পদের অবমূল্যায়ন ও রিজার্ভের স্বল্পতা
কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (NAV) ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১ সালে যেখানে এনএভি ছিল ২০.২২ টাকা, ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ১৬.০৬ টাকায়। এছাড়া, ওসআই (OCI) বাদে রিজার্ভ ও সারপ্লাস এখন ঋণাত্মক ৪৪.৩ মিলিয়ন টাকা, যা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ আর্থিক ভিত্তি কতটা নড়বড়ে তা স্পষ্ট করে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ফাটল
বাজার তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে শেয়ারটির দর ৮.৭০ টাকা থেকে ১৪.৮০ টাকার মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা কিছুটা বাড়তি মূল্যে (১৫.৩০ টাকা) লেনদেন হচ্ছে। তবে পি/ই রেশিও (P/E Ratio) নেতিবাচক হওয়া এবং ক্রমাগত ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদানে ব্যর্থতা (সর্বশেষ ডিভিডেন্ড মাত্র ১.৫০%) বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি করেছে। বিশেষ করে স্পন্সর ও ডিরেক্টরদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ ৩৬.৪৭% থেকে কমে ৩০.২৯%-এ নেমে আসা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরণের ফাটল ধরিয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, গোল্ডেন সন লিমিটেড বর্তমানে বড় ধরণের তারল্য সংকট এবং পরিচালনাগত অদক্ষতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিপুল ঋণের বোঝা এবং ধারাবাহিক লোকসান কাটিয়ে কোম্পানিটি কবে নাগাদ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।