Home আন্তর্জাতিক গাজাগামী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি কমান্ডোদের হানা: ২২ জাহাজ আটক

গাজাগামী ত্রাণবহরে ইসরায়েলি কমান্ডোদের হানা: ২২ জাহাজ আটক

গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ওপর গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক জলসীমায় গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে এই অভিযান চালানো হয়। ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, বহরের ৫৮টি জাহাজের মধ্যে অন্তত ২২টি জাহাজ ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি কমান্ডোরা কবজা করেছে।
অভিযানের বিবরণ: ৬০০ মাইল দূরেই গতিরোধ
সাধারণত গাজা উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছালে ইসরায়েল বাধা দিলেও, এবার গাজা থেকে প্রায় ১,১১১ কিলোমিটার (৬০০ নটিক্যাল মাইল) দূরে থাকতেই বহরটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ইসরায়েলি স্পিডবোট ও ড্রোন। এটি ইসরায়েলি নৌবাহিনীর ইতিহাসে উপকূল থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে চালানো কোনো ইন্টারসেপশন অপারেশন।
ফ্লোটিলার স্বেচ্ছাসেবীরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনারা লেজার ও সেমি-অটোমেটিক রাইফেল তাক করে জাহাজে ওঠে এবং নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের হাত ও হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে বাধ্য করে। জ্যামিং প্রযুক্তির মাধ্যমে জাহাজের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জিপিএস নেভিগেশন বিকল করে দেওয়া হয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও আটক
  • আটক জাহাজ: ৫৮টি জাহাজের মধ্যে ২২টি আটক করা হয়েছে, বাকিগুলো গ্রিক জলসীমায় আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়েছে।
  • স্বেচ্ছসেবী: ৭০টি দেশের প্রায় ১,০০০ জন অধিকারকর্মী এই বহরে যুক্ত ছিলেন। এদের মধ্যে প্রায় ১৮০ জনকে আটক করে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
  • যান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতি: কমান্ডোরা বেশ কিছু জাহাজের ইঞ্জিন এবং নেভিগেশন অ্যারে ধ্বংস করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: ‘রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতা’র অভিযোগ
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে:
তুরস্ক: তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে সরাসরি ‘জলদস্যুতা’ (Act of Piracy) হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক মূল্যবোধ চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে।
ইতালি: ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ: পশ্চিম তীর ও গাজার জন্য জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ প্রশ্ন তুলেছেন, ইউরোপের দোরগোড়ায় আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের হামলা ইসরায়েল কীভাবে করার সাহস পায়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই অভিযানকে ‘উস্কানি প্রতিরোধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের দাবি, এই ফ্লোটিলা হামাসের সমর্থনে আয়োজিত হয়েছে। ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গideon Saar জানিয়েছেন, আটককৃতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং গ্রিক কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে তাদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ভিজিট করুন www.businesstoday24.com এবং আপনার মন্তব্য জানান