Home First Lead চট্টগ্রামে ২২ ট্যানারির ২১টিই বন্ধ, চামড়া শিল্পে বিপর্যয়

চট্টগ্রামে ২২ ট্যানারির ২১টিই বন্ধ, চামড়া শিল্পে বিপর্যয়

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: এবারের ঈদুল আজহায় দেশের চামড়া শিল্পে আবারও বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে, যার সবচেয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলে। চামড়ার দামের পতন এবং বিপুল পরিমাণ চামড়া অবিক্রিত থেকে নষ্ট হওয়ার দৃশ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অসহায়ত্ব তৈরি করেছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এবারের ঈদুল আজহায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৮ লাখের বেশি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় আড়ত, নিলাম কেন্দ্র এবং ২২০টি মাদ্রাসার মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ চামড়া সংরক্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো চট্টগ্রামে নেই। উৎসবের দিনগুলোতে হঠাৎ চামড়ার সরবরাহ বাড়লে তা কয়েক দিনের মধ্যে ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
দুই দশক আগেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম প্রধান চামড়া উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। অথচ বর্তমানে জেলার ২২টি ট্যানারির প্রায় সবগুলোই বন্ধ। কেবল রিফ লেদার লিমিটেড সীমিত পরিসরে তাদের কার্যক্রম চালু রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোখলেসুর রহমান সতর্ক করে জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্যানারিগুলো পরিবেশবান্ধব উপায়ে পুনরায় চালু করা না হলে ভবিষ্যতে বিপুল পরিমাণ কাঁচা চামড়া ব্যবস্থাপনা করা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
চট্টগ্রামের এই সংকটের মূল যোগসূত্র রয়েছে ঢাকার সাভার চামড়া শিল্পনগরীর ব্যর্থতার সাথে। সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পূর্ণ ক্ষমতায় চলতে না পারায় পরিবেশ দূষণ ঘটছে, যার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে (বিশেষ করে ইউরোপে) বাংলাদেশি চামড়ার চাহিদা ধসে পড়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এলডব্লিউজি সনদ না থাকায় দেশের ট্যানারিগুলো ইউরোপ ও আমেরিকার লাভজনক বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে চীনের কাছে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কম মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ প্রতি বছর চামড়া খাত থেকে আনুমানিক ৫ কোটি মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় হারাচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, সিইটিপি পুরোপুরি সচল করতে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার জরুরি সংস্কার প্রয়োজন, যা তহবিল ও ঋণের জটিলতায় আটকে আছে। চাপ কমাতে বিসিকের পক্ষ থেকে ট্যানারিগুলোকে নিজস্ব ইটিপি স্থাপনের অনুরোধ জানানো হলেও, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য কেন্দ্রীয় সিইটিপির ওপরই নির্ভর করতে হবে।
দেশের চামড়া শিল্পের এই ক্রান্তিলগ্নে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং সামগ্রিক খাতের উন্নয়নে আপনার মতামত কী? নিয়মিত এমন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং মন্তব্য করে আমাদের সাথেই থাকুন।