Home চট্টগ্রাম আনোয়ারায় মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি: স্মার্ট বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

আনোয়ারায় মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি: স্মার্ট বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত

ছবি: এ আই

কামরুল ইসলাম

দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার আনোয়ারা এখন আর কেবল একটি মফস্বল উপজেলা নয়; বরং এটি দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প ও অর্থনৈতিক হাবে পরিণত হয়েছে। কর্ণফুলী টানেল, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং গভীর সমুদ্রের সান্নিধ্য এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে নতুন স্বপ্নের ডালপালা মেলছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে এবং স্থানীয় জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আনোয়ারায় একটি ‘মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি’ স্থাপন এখন সময়ের দাবি।
শিল্প ও শিক্ষার সেতুবন্ধন
আনোয়ারায় বাস্তবায়নাধীন কোরীয় ইপিজেড (KEPZ) এবং চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে শত শত শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে। বর্তমানে এসব কারখানায় উচ্চপদস্থ কারিগরি পজিশনে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভর করতে হয়। আনোয়ারায় একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলে এখান থেকে পাস করা প্রকৌশলীরা সরাসরি এসব শিল্পে অবদান রাখতে পারবেন। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।
ব্লু-ইকোনমি ও সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার
উপজেলার বিশাল উপকূলীয় এলাকা বঙ্গোপসাগরের সাথে যুক্ত। বর্তমান সরকার সমুদ্র সম্পদ বা ‘ব্লু-ইকোনমি’র ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ে মেরিন ফিশারিজ, ওশানোগ্রাফি এবং নেভাল আর্কিটেকচারের মতো বিষয় থাকলে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মৎস্য ও পশুপালনে আধুনিকায়ন
আনোয়ারা, বাঁশখালী ও পটিয়া অঞ্চল ডেইরি এবং মৎস্য চাষের জন্য বিখ্যাত। তবে এখানকার অধিকাংশ খামারি প্রথাগত পদ্ধতিতে কাজ করেন। একটি বিশেষায়িত কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও আধুনিক বায়োটেকনোলজির মাধ্যমে এই খাতকে আরও লাভজনক করা যাবে। বিশেষ করে ইলিশ প্রজনন ও দুগ্ধ উৎপাদনে এই অঞ্চলটি দেশের ‘ফুড হাব’ হয়ে উঠতে পারে।
ভৌগোলিক সুবিধা ও উন্নত সংযোগ
টানেল চালু হওয়ার পর আনোয়ারা এখন চট্টগ্রাম মূল শহরের সাথে ওয়ান-সিটি টু-টাউন মডেলে যুক্ত। ফলে এখানে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অত্যন্ত সহজ। অবকাঠামোগত এই সুবিধার কারণে এখানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত লাভজনক।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের দাবি
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২৬ সালের এই নতুন প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, বরং কর্মমুখী ও বিশেষায়িত কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর চলমান মেয়াদের শুরুতেই আনোয়ারায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা আসলে তা চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভাগ্য বদলে বড় ভূমিকা রাখবে।
 একটি মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি কেবল আনোয়ারার জন্য নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

কামরুল ইসলাম। সাংবাদিক।E-mail: btbd24@gmail.com