হেলথ ডেস্ক:
রাতে গভীর ঘুমে থাকা অবস্থায় হঠাৎ পায়ের আঙুল বা পাতায় তীব্র টান বা খিল ধরা এক যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘নকটার্নাল লেগ ক্র্যাম্পস’ বলা হয়। সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত এই ব্যথা স্থায়ী হতে পারে। কেন এই সমস্যা হয় এবং এর থেকে মুক্তির উপায় কী, তা নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।
খিল ধরার নেপথ্যে প্রধান কারণসমূহ
পেশির এই আকস্মিক সংকোচনের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ না থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু বিষয়কে দায়ী করেন:
১. খনিজ উপাদানের ঘাটতি: শরীরের স্নায়ু ও পেশি পরিচালনার জন্য পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের সঠিক ভারসাম্য প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাসে এসব উপাদানের অভাব থাকলে পেশি হুটহাট সংকুচিত হয়ে পড়ে।
২. পানিশূন্যতা: পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরের কোষগুলোতে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিশেষ করে গরমকালে বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর রাতে এই সমস্যা প্রকট হতে পারে।
৩. পেশির অতিরিক্ত ব্যবহার: দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করা বা অস্বাভাবিক ভঙ্গিতে হাঁটাচলার কারণে পায়ের ক্ষুদ্র পেশিগুলো ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই ক্লান্তি থেকেই রাতে স্নায়বিক উদ্দীপনার ফলে খিল ধরে।
৪. জীবনযাত্রার ধরন: খুব শক্ত বা অস্বস্তিকর জুতো পরা এবং দীর্ঘক্ষণ একইভাবে বসে থাকা রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে, যা পরোক্ষভাবে পেশিতে টানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাৎক্ষণিক মুক্তি ও প্রতিরোধে করণীয়
ঘুমের মধ্যে হঠাৎ খিল ধরলে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে:
- স্ট্রেচিং: পায়ের আঙুলগুলো আলতো করে ধরে নিজের শরীরের দিকে টেনে ধরুন। এটি সংকুচিত পেশিকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে।
- উষ্ণতা প্রদান: শক্ত হয়ে যাওয়া জায়গায় গরম পানির সেঁক দিলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং পেশি শিথিল হয়।
- ম্যাসাজ: আলতো হাতে আক্রান্ত স্থানে মালিশ করলে ব্যথার তীব্রতা কমে আসে।










