বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: ২০২৬ সালের পবিত্র হজ পালনে ইচ্ছুক বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বিমান টিকিট ক্রয় নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও অনেক সমন্বয়কারী এজেন্সি হজযাত্রীদের বিমান ভাড়ার অর্থ লিড এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে জমা না দেওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় হজ ব্যবস্থাপনা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও ব্যাংকগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
জটিলতার মূল কারণ
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজের জন্য প্রতিটি সমন্বয়কারী এজেন্সিকে হজযাত্রীপ্রতি ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা করে লিড এজেন্সির ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কথা ছিল। এই অর্থ জমা দেওয়ার প্রাথমিক সময়সীমা ছিল ৪ জানুয়ারি, ২০২৬। তবে গতকাল ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, অনেক এজেন্সি এখনো এই অর্থ স্থানান্তর করেনি। ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি থমকে দাঁড়িয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ ও আল্টিমেটাম
পরিস্থিতি সামাল দিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এবং গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দফায় দফায় চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে:
সর্বশেষ সময়সীমা: আগামী ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬-এর মধ্যে (যা ইতিমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে) সকল অর্থ স্থানান্তর করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে।
এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কোনো এজেন্সি অর্থ পাঠাতে ব্যর্থ হলে ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন’ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যাংকগুলোর প্রতি নির্দেশ: অগ্রণী, সোনালী, ইসলামী ব্যাংকসহ প্রায় ২১টি ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা দ্রুত অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পাঠাতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে হজ কার্যক্রমের জন্য ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করা হতে পারে।
হজযাত্রীদের ওপর প্রভাব
২০২৬ সালের প্রথম হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সাধারণত ফ্লাইটের অন্তত ৩-৪ মাস আগে টিকিট বুকিং ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। টিকিট ক্রয়ে এই বিলম্বের কারণে: ১. কাঙ্ক্ষিত শিডিউলে টিকিট না পাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ২. শেষ মুহূর্তে টিকিটের সংকট তৈরি হতে পারে। ৩. সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সৌদি সরকারের কঠোর নিয়মের কারণে এবার কোনো প্রকার শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই। অন্যদিকে, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) এর পক্ষ থেকে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কথা জানানো হলেও মন্ত্রণালয় সেগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুত অর্থ পরিশোধের ওপর জোর দিচ্ছে।