বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক নিশ্চিত করতে বড় ধরনের ছাড় ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চাল, ডাল, তেল ও চিনিসহ প্রধান ১০টি নিত্যপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এলসি (ঋণপত্র) খোলার সময় যে নগদ মার্জিন বা অগ্রিম টাকা জমা দিতে হয়, তা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মূলত আমদানিকারকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত জোগান নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
যে ১০টি পণ্যে মিলবে এই সুবিধা: রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে, মূলত সেগুলোকেই এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পণ্যগুলো হলো: ১. চাল ২. গম ৩. পেঁয়াজ ৪. ডাল (মসুর, মুগ ইত্যাদি) ৫. ভোজ্যতেল (সয়াবিন ও পাম অয়েল) ৬. চিনি ৭. ছোলা ৮. মটর ৯. বিভিন্ন ধরনের মসলা ১০. খেজুর
নির্দেশনার মূল বিষয়সমূহ:
নগদ মার্জিন হ্রাস: আগে অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের এলসি খোলার সময় পণ্যের মোট মূল্যের একটি বড় অংশ (কখনও ১০০ শতাংশ পর্যন্ত) অগ্রিম জমা দিতে হতো। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংকার ও গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এই মার্জিন একদম ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা অল্প পুঁজিতে বেশি পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন।
অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলসি নিষ্পত্তি: ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই ১০টি পণ্যের আমদানির আবেদন পাওয়ার সাথে সাথে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনোভাবেই যেন আমদানির প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতার কবলে না পড়ে।
কার্যকারিতা ও মেয়াদ: বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ রমজানের শুরু থেকে ঈদ পরবর্তী সময় পর্যন্ত ব্যবসায়ীরা এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
ভোক্তা সাধারণের জন্য সুফল: সাধারণ মানুষের জন্য এই নির্দেশের সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজারের ওপর। আমদানিকারকদের খরচ কমলে এবং পণ্য সরবরাহ বাড়লে: ১. বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমবে। ২. পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম সহনীয় থাকবে। ৩. রমজানে অতি প্রয়োজনীয় খেজুর, ছোলা ও চিনির মতো পণ্যের দাম নাগালের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর আওতায় এই নির্দেশনাটি দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোরভাবে মনিটর করবে যাতে ব্যাংকগুলো আমদানিকারকদের এই সুবিধা প্রদানে কোনো গড়িমসি না করে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়োচিত এই পদক্ষেপের ফলে রমজানে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্য সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে পারবে।










