এভিয়েশন ডেস্ক:
পাকিস্তান-ভারত চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ৪৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন, এবং বিমান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।
পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৭ থেকে ৯ মে পর্যন্ত লাহোর, ইসলামাবাদ, করাচি, সিয়ালকোট ও মুলতানসহ প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে লাহোরের আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিনের ৫০টির বেশি ফ্লাইটের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে ।
এই সময়ে পাকিস্তানে ১৪৭টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা দৈনিক ফ্লাইটের প্রায় ১৭ শতাংশ। একই সময়ে ভারতে ৪৩০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যা দেশটির মোট নির্ধারিত ফ্লাইটের প্রায় ৩ শতাংশ ।
এই ফ্লাইট বিঘ্নের ফলে হজযাত্রীদেরও ভোগান্তি বেড়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ থেকে ৯ মে পর্যন্ত ১৩টি হজ ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে, যার মধ্যে ৪টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৯টি বিলম্বিত হয়েছে। বাতিল ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, এবং আরও ৫৪০ জন হজযাত্রীকে ইসলামাবাদ ও লাহোর থেকে বিশেষ ফ্লাইটে পাঠানো হবে ।
পাকিস্তানের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদেরকে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জানার পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট বিঘ্ন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই সামরিক উত্তেজনার ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয় দেশকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।








