মোঃ গোলাপ মিয়া, লালমনিরহাট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী ও কালীগঞ্জ) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। জোট-মহাজোটের সমীকরণ ছাপিয়ে এই আসনে এখন আলোচনার কেন্দ্রে তিন হেভিওয়েট প্রার্থী।
একদিকে বাবার হারানো আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া জনতার দলের চেয়ারম্যান সাবেক সেনা কর্মকর্তা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি এবং কৌশলী অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামী।
বাবার ঐতিহ্য ফেরাতে চান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল
লালমনিরহাট-২ আসনটি একসময় জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। এই আসন থেকে টানা ৭ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আলহাজ্ব মজিবুর রহমান। ২০১৪ সালে রাজনৈতিক নাটকীয়তায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর আসনটি জাতীয় পার্টির হাতছাড়া হয়। এবার সেই হারানো গৌরব ফিরে পেতে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন মরহুম মজিবুর রহমানের সুযোগ্য সন্তান, জনতার দলের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামাল।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সাবেক এই শিক্ষক এবং শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী শামীম কামাল গত নির্বাচনেই অংশ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকারি চাকুরির বিধিমালায় আটকা পড়ায় তখন সম্ভব হয়নি। এবার নিজের গড়া ‘জনতার দল’ থেকে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে আদিতমারী-কালীগঞ্জের মানুষের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে তিনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
এদিকে বিএনপি এই আসনে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুলকে দলীয় মনোনয়ন দিলেও স্বস্তিতে নেই দলটি। মনোনয়ন নিয়ে পরিবারের ভেতর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র কোন্দল। রোকন উদ্দিনের আপন ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম মনোনয়ন না পেয়ে বর্তমানে পর্দার আড়ালে ভাইয়ের বিরোধিতা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা এখন দুই ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল কাটাতে না পারলে ভোটের মাঠে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিএনপির সাধারণ সমর্থকরা।
বিএনপির গৃহবিবাদের সুযোগ নিতে মাঠে বেশ সক্রিয় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির জেলা সাধারণ সম্পাদক ও আদিতমারী উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুসংগঠিত সাংগঠনিক শক্তি ও ক্লিন ইমেজের কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষায় ভোটাররা
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লালমনিরহাট-২ আসনে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে (বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে) লড়াই হবে মূলত ত্রিমুখী। একদিকে শামীম কামালের পারিবারিক জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে বিএনপির দলীয় ভোটব্যাংক এবং জামায়াতের সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী। শেষ পর্যন্ত এই তিন প্রার্থীর মধ্যে কার গলায় বিজয়ের মালা উঠবে, তা দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ।