Home গাড়িবাজার প্রথম প্রান্তিকে জাপানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি রপ্তানিতে রেকর্ড

প্রথম প্রান্তিকে জাপানের রিকন্ডিশন্ড গাড়ি রপ্তানিতে রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বব্যাপী লজিস্টিকস খাতের নানা টানাপোড়েন এবং জাহাজ জটের চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে জাপানের ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির চাহিদা এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাস্টমস ও ট্রেড ডাটার সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশটিতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি রপ্তানিতে বড় ধরনের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, এই প্রথম প্রান্তিকে জাপান থেকে বিশ্ববাজারে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার (১২.৪ লাখ) ইউনিট ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি রপ্তানি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই বিপুল পরিমাণ গাড়ির মোট আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৫.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শ্লথগতির বাজারে এই খাতটির এমন চাঙ্গা ভাব জাপানের সামগ্রিক বাণিজ্য উদ্বৃত্তে বড় ধরনের ইতিবাচক অবদান রাখছে।
মূল্যবৃদ্ধির বাজারেও কেন বাড়ছে জাপানি গাড়ির চাহিদা? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নতুন গাড়ির উৎপাদন খরচ এবং শোরুমের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর বিপরীতে জাপানের শক্তিশালী নিলাম ব্যবস্থা (USS, TAA, CAA) থেকে সংগৃহীত ৩ থেকে ৫ বছর পুরোনো রিকন্ডিশন্ড গাড়িগুলো তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। বিশেষ করে জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড (HEV) প্রযুক্তি এবং জাপানি গাড়ির দীর্ঘস্থায়িত্বের ওপর বৈশ্বিক ক্রেতাদের গভীর আস্থার কারণেই এই রেকর্ড প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
কোন কোন দেশে সবচেয়ে বেশি গাড়ি রপ্তানি হয়েছে? জাপানের কাস্টমস বিভাগের তথ্য এবং মর্ডর ইন্টেলিজেন্সের বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির মূল বাজারগুলো ছিল নিম্নরূপ:
১. রাশিয়া (শীর্ষ বাজার হিসেবে পুনর্বহাল): ইউরোপীয় ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর থেকে রাশিয়ার বাজারে জাপানি ব্যবহৃত গাড়ির একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সুদূর পূর্বাঞ্চলীয় ভ্লাদিভোস্তক বন্দর দিয়ে জাপানের কমপ্যাক্ট এসইউভি (SUV) এবং ৪-হুইল ড্রাইভ গাড়িগুলোর সবচেয়ে বড় চালানটি খালাস হয়েছে।
২. সংযুক্ত আরব আমিরাত (মূল রি-এক্সপোর্ট হাব): দুবাইয়ের ‘আল আওয়ির’ ব্যবহৃত গাড়ির বাজারসহ আমিরাতের বিভিন্ন ফ্রি-জোনে বিপুল পরিমাণ জাপানি গাড়ি রপ্তানি হয়েছে। এই গাড়িগুলোর একটি বড় অংশ পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ, মধ্য এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকায় পুনরপ্তানি (Re-export) করা হয়।
৩. মঙ্গোলিয়া ও মধ্য এশিয়া: ল্যান্ডলকড বা ভূবেষ্টিত দেশ মঙ্গোলিয়ায় জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার অংশীদারিত্ব এখন ৯০ শতাংশের ওপরে। বিশেষ করে টয়োটা প্রিইউস এবং অন্যান্য হাইব্রিড মডেলের গাড়ি উলাসবাতর শহরের রাস্তায় একচেটিয়া রাজত্ব করছে। এর পাশাপাশি কাজাখস্তান ও উজবেকিস্তানেও রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
৪. ওশেনিয়া অঞ্চল (নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া): ডান-হাতি ড্রাইভ (RHD) দেশ হওয়ার কারণে নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া ঐতিহ্যগতভাবেই জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির অন্যতম প্রধান গন্তব্য। পরিবেশগত কঠোর স্ক্রিনিং ও ব্যাটারি পরীক্ষার নিয়ম মেনে এই প্রথম প্রান্তিকে দেশ দুটিতে রেকর্ড সংখ্যক হাইব্রিড ও কেই (Kei) কার প্রবেশ করেছে।
৫. পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা (কেনিয়া, তাঞ্জানিয়া ও জিম্বাবুয়ে): আফ্রিকার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে সাশ্রয়ী যাতায়াতের জন্য জাপানি ব্যবহৃত গাড়ির বিকল্প নেই। কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দর দিয়ে টয়োটা ভিটজ, এক্স-ট্রেইল এবং প্রোবক্সের মতো বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত গাড়ির বিশাল লট এই তিন মাসে সরবরাহ করা হয়েছে।
লজিস্টিকস চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ আউটলুক
রেট বা ফ্রেইট কস্ট বৃদ্ধির কারণে বছরের শুরুতে শিপিং শিডিউল কিছুটা ওলোটপালোট হলেও, জাপানের গাড়ি রপ্তানিকারকরা সমুদ্রপথের বিকল্প রুট এবং বিশেষায়িত কার-ক্যারিয়ার জাহাজের আগাম বুকিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখেছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে ইলেকট্রিক গাড়ির (EV) ব্যবহৃত সংস্করণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী প্রান্তিকগুলোতে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির অবক্ষয় পরীক্ষা এবং পরিবেশগত শংসাপত্রের কড়াকড়ি এই খাতের প্রবৃদ্ধির গতিকে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে।