আন্তর্জাতিক কমোডিটি মার্কেটে জ্বালানি তেল ও অন্যান্য পণ্যের দাম ওঠানামার মধ্যেই আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্বর্ণের বাজার। আজ ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান ধাতুর স্পট প্রাইস বা স্পট গোল্ডের অবস্থান এখন ৪,৩৩০ মার্কিন ডলারের ঘরে ঘোরাফেরা করছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির চলমান অস্থিরতা এবং প্রধান প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখার নীতি স্বর্ণের এই দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
ডলারের ওপর চাপ ও ফেডারেল রিজার্ভের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সাম্প্রতিক নীতিমালার পর আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের ইনডেক্স কিছুটা দুর্বল হয়েছে। সাধারণত ডলারের মান কমলে অ-লভ্যাংশকারী সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা ও মূল্য উভয়ই বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বা মুনাফা কমে যাওয়ার কারণেও বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা দামকে আরও শক্তিশালী করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রেকর্ড স্বর্ণ ক্রয়
কাগুজে মুদ্রার বিপরীতে নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে নিরাপদ রাখতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, বিশেষ করে চীন, পোল্যান্ড এবং ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা বেশ কয়েক মাস ধরে রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ কিনছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এই একচেটিয়া ক্রয়ের কারণে বাজারে স্বর্ণের একটি শক্তিশালী ‘প্রাইস ফ্লোর’ বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তর তৈরি হয়েছে, যা স্পট গোল্ডের দামকে সহজে নামতে দিচ্ছে না।
ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস: আউন্সপ্রতি ৬,০০০ ডলারের পথ
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান এবং গোল্ডম্যান স্যাকস-এর গ্লোবাল অ্যানালিস্টরা তাদের সর্বশেষ কমোডিটি আউটলুকে জানিয়েছেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কাঠামোগত ঋণের যে পরিস্থিতি, তাতে ২০blank২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিক (Q4) নাগাদ স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৫,৪০০ থেকে ৬,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
দেশীয় বাজারে প্রভাব ও বাজুসের নতুন পদ্ধতি
বিশ্ববাজারের এই চাঙ্গাভাবের মধ্যেই বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত করে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণের একটি ঐতিহাসিক নতুন পদ্ধতি চালু করেছে। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী প্রতি ভরিতে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের কারণে আজ বৃহস্পতিবার থেকে দেশীয় বাজারে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২,৩২,৯৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়তে থাকলে দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।