বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত কথিত ‘র্যাগিং’-এর বিষয়টি কেবল কোনো সাধারণ বিশৃঙ্খলা বা বর্ষীয়ান শিক্ষার্থীদের খেয়ালখুশি নয়; এটি গুরুতর মানসিক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি ছাত্রাবাসে কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে আপত্তিকর ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণে বাধ্য করার ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক নিরাপত্তার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে।
অপরাধের ধরন ও আইনগত প্রেক্ষাপট
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনাকে প্রায়শই ‘র্যাগিং’ শব্দ বন্ধনীতে হালকা করে দেখার চেষ্টা করা হয়। তবে আইন ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যক্তিকে অবরুদ্ধ রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিকৃত অভিনয়ে বাধ্য করা এবং মানসিক ট্রমার মুখে ঠেলে দেওয়া একটি স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ। উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার পাশাপাশি দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র্যাগিং বিরোধী কঠোর নীতিমালা রয়েছে। শাবিপ্রবির এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তার ওপর নির্ভর করছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা।
প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি ও নিরাপত্তার ঘাটতি
বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ভূখণ্ডের বাইরে ছাত্রাবাস বা মেসে অবস্থানরত নবীন শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্বও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আওতাভুক্ত। সৈয়দ মুজতবা আলী হল সংলগ্ন রিপন ছাত্রাবাসে যেভাবে চার ঘণ্টা ধরে নবীনদের অবরুদ্ধ করে রাখা হলো, তা আবাসিক এলাকা ও ছাত্রাবাসগুলোতে প্রশাসনের নজরদারির মারাত্মক দুর্বলতাকে নির্দেশ করে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর অর্পিত, সেই প্রক্টরিয়াল বডির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর থেকে প্রক্টরকে ফোনে না পাওয়া এবং সহকারী প্রক্টরের বক্তব্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার চেয়ে আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপরই বেশি নির্ভর করা হচ্ছে।
অভিযুক্তদের মন্তব্য ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা
অভিযোগ উঠার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে নিজেদের দোষ এড়িয়ে যাওয়া কিংবা বিষয়টিকে ‘নিজেদের মধ্যে মীমাংসা’ করার যে প্রবণতা দেখা গেছে, তা অন্যায়কে স্বাভাবিকীকরণের একটি সংস্কৃতিকে প্রকাশ করে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা যে গভীর মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা কোনো ঘরোয়া মীমাংসার বিষয় হতে পারে না।
বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি প্রদানের কেন্দ্র নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক সুরক্ষার স্থান। শাবিপ্রবি প্রশাসন যদি এই ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ না করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ না নেয়, তবে তা ভবিষ্যতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে চরম আশঙ্কাজনক পরিবেশ তৈরি করবে।