আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামাবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পৌঁছেছে। শুক্রবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আরাগচিকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করা। আরাগচি এই সফরকে অত্যন্ত “সময়োপযোগী” হিসেবে উল্লেখ করে জানান যে, ইসলামাবাদ ছাড়াও তিনি মাস্কাট ও মস্কো সফর করবেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করাও এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
মার্কিন প্রতিনিধি দলের আগমন ও দ্বান্দ্বিক অবস্থান
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জেয়ার্ড কুশনারও আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে আসছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে সরাসরি আলোচনার জন্য এই সফর। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, ইরানের পর্যবেক্ষণগুলো পাকিস্তানের মাধ্যমে জানানো হবে এবং সরাসরি আলোচনার দাবিটি নাকচ করে দিয়েছেন।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান জোরালো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে প্রথম দফার ঐতিহাসিক প্রত্যক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও হরমুজ প্রণালী এবং ইরানি বন্দর অবরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিদ্যমান, তবুও দ্বিতীয় দফার আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নাটালি বেকারের সাথে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাভির বৈঠক এই প্রচেষ্টারই অংশ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পরবর্তী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দার এবং আরাগচির মধ্যে এক ফোনালাপে যুদ্ধবিরতি এবং চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যেখানে আরাগচি পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন।