Home আন্তর্জাতিক নেপাল: ‘জেন-জেড’ আন্দোলনের ধাক্কা সামলে নির্বাচনীমুখী

নেপাল: ‘জেন-জেড’ আন্দোলনের ধাক্কা সামলে নির্বাচনীমুখী

ওলি
রামেশ ভট্ট, কাঠমান্ডু: নেপালে গত বছরের রক্তক্ষয়ী ‘জেন-জেড’ (Gen Z) আন্দোলনের ধাক্কা সামলে রাজনীতি এখন নির্বাচনীমুখী। গত সেপ্টেম্বর মাসে জেনারেশন জেডের নেতৃত্বে হওয়া তীব্র গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং সিপিএন-ইউএমএল (CPN-UML) প্রধান কেপি শর্মা ওলি-র ওপর থেকে চলাচলের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর পরপরই তাঁর দল আগামী ৫ মার্চ ২০২৬-এ অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু করেছে।
মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত দলীয় সচিবালয়ের বৈঠকে সিপিএন-ইউএমএল দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করেছে।
ঘোষণাপত্র খসড়া কমিটি: এই কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন খোদ কেপি শর্মা ওলি।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটি: দলের সহ-সভাপতি রাম বাহাদুর থাপার নেতৃত্বে এই কমিটি নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করবে।
এছাড়াও, সাতটি প্রদেশের জন্য পৃথক ইন-চার্জ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নির্দেশ করে যে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও রাজনৈতিক জোট
নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু করলেও ওলি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বিদেশি শক্তির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ওলির দাবি, নেপালি কংগ্রেস এবং তাঁর দল (UML) কাছাকাছি আসায় সরকার এবং কিছু বিদেশি শক্তি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।
উল্লেখ্য যে, আগামী ২৫ জানুয়ারি নেপালের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (উচ্চকক্ষ) নির্বাচনের জন্য নেপালি কংগ্রেস এবং UML-এর মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জোট সফল হলে তা আগামী মার্চের সাধারণ নির্বাচনেও বড় প্রভাব ফেলবে।
পটভূমি: জেন-জেড আন্দোলন ও তদন্ত কমিশন
২০২৫ সালের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর নেপালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেন-জেড প্রজন্ম এক অভূতপূর্ব আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন নিহত এবং ২,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হন। আন্দোলনের মুখে ওলি সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয় এবং সুশীলা কার্কির নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
তদন্ত কমিশন ওলিকে আন্দোলনের সময় ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর সোমবার তাঁর ওপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এরপরই ওলি নেতাকর্মীদের ‘ন্যাশনাল ইয়ুথ ভলান্টিয়ার ফোর্স’ গঠন করে আন্দোলনের মেজাজে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন।
“নির্বাচনকে একটি আন্দোলনের মতো নিতে হবে। সরকারের বর্তমান কর্মকাণ্ড অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত করছে।” — কেপি শর্মা ওলি

নির্বাচনী ক্যালেন্ডার একনজরে
ইভেন্ট
তারিখ (সম্ভাব্য)
ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি নির্বাচন
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬
সাধারণ নির্বাচন (House of Representatives)
৫ মার্চ, ২০২৬
নতুন সংসদ গঠন
এপ্রিল ২০২৬
নেপালের রাজনীতিতে এই পরিবর্তনগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং জেন-জেড আন্দোলনের মাধ্যমে সৃষ্ট তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষা এবং পুরনো রাজনৈতিক শক্তির টিকে থাকার এক বড় পরীক্ষা।