Home Second Lead ডিমের খাঁচায় কারসাজি: হালি বা ডজনে ‘নষ্ট’ ও ‘ছোট’ ডিম

ডিমের খাঁচায় কারসাজি: হালি বা ডজনে ‘নষ্ট’ ও ‘ছোট’ ডিম

সিরিজ প্রতিবেদন

পকেটে সিঁধ: ভোক্তার প্রতিদিনের লড়াই 

কামরুল হাসান
সস্তায় প্রোটিনের সেরা উৎস হিসেবে ডিমের বিকল্প নেই। মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত—সবার খাবারের তালিকায় ডিমের স্থান সবার ওপরে। কিন্তু এই ডিম কিনতেও কি আপনি প্রতারণার শিকার হচ্ছেন? এক হালি বা এক ডজন ডিমের অর্ডারে বিক্রেতা খুব সন্তর্পণে আপনার থলেতে এমন কিছু ঢুকিয়ে দিচ্ছেন, যা আসলে খাওয়ার অযোগ্য কিংবা ওজনে অনেক কম।
বিজনেসটুডে২৪-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ডিমের বাজারের সেইসব কৌশলী কারসাজি, যা আপনার অজান্তেই আপনার পকেট কাটছে।
ডিমের বাজারে যেভাবে চলে ‘চাতুরি’
বড়র আড়ালে ‘ছোট’ ডিম: পাইকারি বাজার থেকে ডিম আসার সময় কয়েক ধরণের গ্রেড বা সাইজ থাকে। অসাধু বিক্রেতারা বড় সাইজের ডিমের খাঁচায় (যাকে অনেকে ‘ডাবল কুসুম’ বা ‘এ গ্রেড’ বলেন) কৌশলে নিচের সারিতে ছোট সাইজের ডিম লুকিয়ে রাখেন। আপনি যখন হালি বা ডজনে ডিম নিচ্ছেন, বিক্রেতা খুব দ্রুততার সাথে ওপর থেকে দুটি বড় এবং নিচ থেকে দুটি ছোট ডিম মিলিয়ে আপনার ব্যাগে ভরে দেন। ফলে সমান দাম দিয়েও আপনি সঠিক পুষ্টি ও ওজন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
‘নষ্ট’ বা ‘বাসি’ ডিমের লুকোচুরি: খাঁচার সব ডিম কি তাজা? একদমই নয়। অনেক সময় আগের দিনের বা বেশ পুরনো ডিমগুলো বিক্রেতারা নতুন ডিমের স্তূপের নিচে রাখেন। এই পুরনো ডিমগুলো বাসি হওয়ায় অনেক সময় কুসুম ভেঙে যায় বা ভেতরে পানি হয়ে যায়। ক্রেতা যখন ব্যস্ততার মধ্যে ডিম কেনেন, বিক্রেতা সুযোগ বুঝে একটি বা দুটি বাসি ডিম আপনার ডজনে ঢুকিয়ে দেন।
 ফাটা বা ফাটল ধরা ডিম গছিয়ে দেওয়া: ডিমের খোসায় সামান্য ফাটল থাকলে তাতে খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে এবং তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিক্রেতারা প্রায়ই এমন সূক্ষ্ম ফাটল ধরা ডিমগুলো এমনভাবে ব্যাগে সাজিয়ে দেন যাতে ফাটল অংশটি ওপর থেকে দেখা না যায়। বাসায় গিয়ে থলে থেকে বের করার সময় দেখা যায় ডিমটি ভেঙে গেছে বা চুইয়ে পড়ছে।
 লাল বনাম সাদা ডিমের কারসাজি: অনেক সময় সাদা ডিমকে বিশেষ রাসায়নিক বা রঙ ব্যবহার করে বাদামী বা ‘দেশি’ ডিম বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। দাম বেশি পাওয়ার আশায় এই ধরণের অসাধু উপায় অবলম্বন করা হয়, যা কেবল আর্থিক প্রতারণা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিও বটে।
ডিম কেনায় ঠকা এড়াতে যা করবেন:
আলোর বিপরীতে ধরুন: ডিমটি আলোর বিপরীতে ধরলে যদি ভেতরটা পরিষ্কার দেখায়, তবে তা তাজা। যদি অন্ধকার বা কালো ছোপ দেখা যায়, তবে বুঝবেন ডিমটি নষ্ট।
ডুবানো পরীক্ষা (ফ্লোট টেস্ট): সন্দেহ হলে বাসায় গিয়ে গ্লাসভর্তি পানিতে ডিমটি রাখুন। তাজা ডিম নিচে পড়ে থাকবে, আর পুরনো বা নষ্ট ডিম ভেসে উঠবে।
ঝাকিয়ে দেখুন: কানের কাছে নিয়ে ডিমটি আলতো করে ঝাকান। যদি ভেতরে নড়াচড়ার শব্দ পান, তবে বুঝবেন ডিমটি বাসি হয়ে গেছে। তাজা ডিমে কোনো শব্দ হয় না।
খোলস খেয়াল করুন: ডিমের খোসা যদি খুব বেশি মসৃণ বা চকচকে হয়, তবে সেটি বাসি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাজা ডিমের খোসা কিছুটা খসখসে হয়।
ভোক্তার অধিকার: ডিমের বাজারে সাইজ বা গুনাগুণ নিয়ে প্রতারণা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রতিটি ডিমের ওজন ও গুণগত মান নিশ্চিত করা বিক্রেতার দায়িত্ব। কোনো নির্দিষ্ট বিক্রেতা বারবার নষ্ট ডিম গছিয়ে দিলে অবিলম্বে স্থানীয় বাজার কমিটিকে অবহিত করুন।
আগামী পর্বে থাকছে: মিষ্টির দোকান ও কার্টনের ওজন— আপনি কি কাগজের দামে মিষ্টি কিনছেন?

বাজারে গিয়ে আপনিও কি ডিম নিয়ে এমন অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন? আমাদের কমেন্টে জানান।