বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: দেশের শেয়ারবাজারে গত এক সপ্তাহে সূচকের প্রায় ৫০০ পয়েন্টের পতন বিনিয়োগকারীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও হতাশা তৈরি করেছে। ৮ মার্চ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৩১ পয়েন্ট বা ৪.৪২ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা গত ছয় বছরের মধ্যে একদিনের সর্বোচ্চ পতন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাজারকে কিছুটা প্রভাবিত করলেও, বর্তমান পতনের নেপথ্যে রয়েছে গভীরে প্রোথিত আস্থার সংকট।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার অমিল: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে অনিশ্চয়তার কথা বাজারে প্রচার করা হচ্ছে, তা বাস্তবতা থেকে অনেকটাই দূরে। দেশের জ্বালানি মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং পাইপলাইনেও জ্বালানি ট্যাংকার আসার অপেক্ষায় আছে। ফলে এই অস্থিরতাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি। বরং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একশ্রেণির বিনিয়োগকারীর মধ্যে সৃষ্ট আতঙ্কই বিক্রির চাপকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজারের এই নাজুক পরিস্থিতির বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কণ্ঠে এখন স্পষ্ট হতাশা। একজন দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারী বলেন, “নতুন সরকার আসার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি থেকে আমরা কাঠামোগত সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি পেয়েছিলাম, তার কোনো দৃশ্যমান বাস্তবায়ন আমরা দেখছি না।
সুশাসনের অভাব এবং বাজারের অস্থিতিশীলতা নিয়ে সরকারের দীর্ঘস্থায়ী নীরবতা বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থাহীনতা তৈরি করেছে। এখন যুদ্ধ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে বাজার পতনের দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে, যা আমাদের মতো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সর্বনাশ করছে।”
আরেকজন বিনিয়োগকারী যোগ করেন, “গত কয়েক মাসে বাজারে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। দুর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্তি, কারসাজি চক্রের দৌরাত্ম্য এবং আইপিও অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর ভরসা হারিয়ে ফেলেছি। বাজার পতনের কারণ কেবল বাইরের যুদ্ধ নয়, বরং ভেতরের অকার্যকারিতাও সমানভাবে দায়ী।”
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সংস্কার ছাড়া এই আস্থার সংকট কাটানো অসম্ভব। সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতা, সুশাসনের অভাব এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি বাজারকে ক্রমাগত অপরিণত করে তুলেছে। বিনিয়োগকারীরা এখন চাইছেন কেবল কথার ফুলঝুড়ি নয়, বরং বিএসইসির পক্ষ থেকে কঠোর ও কার্যকর সংস্কারমূলক পদক্ষেপ।
দেশের অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই পুঁজিবাজারকে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে দ্রুত সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। শুধু বাহ্যিক পরিস্থিতির দিকে না তাকিয়ে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের দিকে নজর না দিলে বিনিয়োগকারীদের এই আস্থাহীনতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শেয়ারবাজারের সর্বশেষ তথ্য ও বিশ্লেষণ পেতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান।