চট্টগ্রামের রাউজানে এক অন্ধকার রাতে নেমে এল শোকের ছায়া। পৌর এলাকার জঙ্গল রাউজানে শনিবার ভোর রাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী কৃষক ও বিএনপি কর্মী কাউসারুজ্জামান। বাড়ি ফেরার পথে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীর অতর্কিত হামলা নিভে যায় এক প্রতিবাদী প্রাণ।
কাউসারুজ্জামানের পিঠে বিঁধে থাকা বুলেটের ক্ষতগুলো কেবল একটি মৃত্যু নয়, বরং এই জনপদের আইনশৃঙ্খলার এক চরম অস্থিরতার সাক্ষ্য দিচ্ছে।
কাউসারুজ্জামান ছিলেন সাধারণ এক কৃষক, যার সংসারে রয়েছে স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান। স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, নানাবাড়ির দাওয়াত খেয়ে ফেরার সময় বিএমও ব্রিক ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
এদিকে, ঘটনার বর্ণনায় কিছুটা ভিন্নতা পাওয়া গেছে পুলিশ ও স্বজনদের তথ্যে—কেউ বলছেন তিনি দাওয়াত খেয়ে ফিরছিলেন, আবার কেউ বলছেন যাচ্ছিলেন মাছ ধরতে। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, তাকে যে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল, তার ইঙ্গিত মিলেছে রাউজান থানার ওসির বক্তব্যে।
তিনি ধারণা করছেন, এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণেই কাউসারুজ্জামানকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রাউজানে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের চারাবটতলা এলাকায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স রেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখা শত শত মানুষের মুখে ছিল খুনিদের বিচার ও ফাঁসির দাবি। রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে একজন প্রতিবাদী মানুষের এমন মর্মান্তিক বিদায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে।
উত্তর জেলা যুবদলের নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন, আর পুলিশও খুনিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে। এখন দেখার বিষয়, রাউজানের শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন কত দ্রুত অপরাধীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে।
আরও আপডেট জানতে ও আমাদের সাথে যুক্ত থাকতে businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মতামত মন্তব্য করে জানান।