বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: নিজস্ব একখণ্ড জমিতে মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়তে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। ডেভলপারের মিষ্টি কথায় ভিটেমাটি তুলে দিয়ে এখন বহু মানুষ আইনি লড়াই আর পথে পথে ঘুরে নিঃস্ব হচ্ছেন। ‘নাকের পানি চোখের পানি একাকার’ হওয়া এই ভুক্তভোগীদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে উঠছে আবাসন খাতের বিশ্বাসযোগ্যতা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেভলপাররা জমি মালিকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় বাহারি সব সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেন। উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তারা চুক্তি সম্পাদন করেন। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিন পরই পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট। অনেক নামি-দামি কোম্পানিও মাঝপথে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করা এবং হস্তান্তরের সময়সীমা পার হওয়ার পরও দিনের পর দিন ঘোরাানো এখন সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেকে জীবনের সমস্ত সঞ্চয় ডেভলপারের হাতে তুলে দিয়ে এখন ভাড়াবাড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা তৈরি হয় আইনি লড়াইয়ে। রিহ্যাবে অভিযোগ করেও অনেক সময় কাজ হয় না, আর আদালতের দীর্ঘসূত্রতায় অনেকের বয়স শেষ হয়ে গেলেও নিজের বাড়িতে আর ওঠা হয় না।
আইনজীবীদের মতে, চুক্তিনামায় অনেক সময় সূক্ষ্ম সব ফাঁকফোকর রাখা হয় যা সাধারণ মালিকরা বুঝতে পারেন না। এছাড়া রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগের অভাবে ডেভলপাররা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। শুধু নির্মাণে দেরি নয়, নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ এবং পার্কিং বা সাধারণ জায়গা দখল করে বিক্রির মতো ঘটনাও অহরহ ঘটছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ডেভলপারের সাথে চুক্তিতে যাওয়ার আগে তাদের অতীত ইতিহাস যাচাই করা এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে চুক্তিনামা স্ক্রুটিনি করা। সাধারণ মানুষের উচিত কোনো চুক্তিতে সই করার আগে কোনো অভিজ্ঞ ডেভেলপার কনসালট্যান্ট বা আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া। মনে রাখবেন, সই করার আগের এক ঘণ্টার সতর্কতা আপনার সারাজীবনের কান্না থামাতে পারে।
আবাসন খাতের এমন সব পর্দার অন্তরালের খবর এবং প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায় জানতে নিয়মিত businesstoday24.com ফলো করুন