Home পরিবেশ প্লাস্টিক দূষণ: দুই দশকে মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে দ্বিগুণ

প্লাস্টিক দূষণ: দুই দশকে মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে দ্বিগুণ

তারিক-উল-ইসলাম, ঢাকা: সম্প্রতি ‘দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটরি হেলথ’ (The Lancet Planetary Health) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্লাস্টিক উৎপাদনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০ বছরে মানবস্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব দ্বিগুণ হতে পারে।
গবেষণার মূল বিষয়বস্তু
গবেষণাটি কেবল পরিবেশে পড়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য বা মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে নয়, বরং প্লাস্টিকের পুরো জীবনচক্র (Life cycle) নিয়ে করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
  • জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলন।
  • প্লাস্টিক উৎপাদন ও পরিবহন।
  • রিসাইক্লিং এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে নির্গত ক্ষতিকারক গ্যাস এবং কণা মানবস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির পরিসংখ্যান (DALYs)
স্বাস্থ্যের ক্ষতি পরিমাপ করতে গবেষকরা DALYs (Disability-Adjusted Life Years) পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এক ডিএএলওয়াই (1 DALY) মানে অসুস্থতা বা অকাল মৃত্যুর কারণে জীবন থেকে একটি সুস্থ বছরের হারিয়ে যাওয়া।
সময়কাল সুস্থ জীবন হারানোর পরিমাণ (বার্ষিক) অবস্থা
২০১৬ ২১ লক্ষ বছর ভিত্তি বছর (Baseline)
২০৪০ ৪৫ লক্ষ বছর (প্রাক্কলিত) বর্তমান ধারা বজায় থাকলে
২০৪০ ২৬ লক্ষ বছর (প্রাক্কলিত) সর্বোচ্চ সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নিলেও
প্রধান ক্ষতিকারক দিকসমূহ
১. সরাসরি প্রভাব: উৎপাদন ও পরিবহনের সময় নির্গত সূক্ষ্ম কণা শ্বাসকষ্ট এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ‘ক্যান্সার অ্যালি’ এর একটি বড় উদাহরণ, যেখানে প্লাস্টিক কারখানার কারণে ক্যান্সারের ঝুঁকি সাধারণের চেয়ে ১১ গুণ বেশি।
২. পরোক্ষ প্রভাব: প্লাস্টিক উৎপাদন বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ৪.৫% এর জন্য দায়ী, যা জলবায়ু পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করছে।
৩. অদৃশ্য বিপদ: গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিক পণ্য থেকে চুইয়ে পড়া বিষাক্ত রাসায়নিকের প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গবেষক মেগান ডিনি জানান, বর্তমান হিসাবটি আসলে প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় কেবল ‘হিমশৈলের চূড়া’ (Tip of the iceberg) মাত্র।
সমাধানের পথ
গবেষণায় প্লাস্টিক দূষণ রোধে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে:
নতুন প্লাস্টিক উৎপাদন হ্রাস: কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নয়, বরং প্লাস্টিক তৈরির হার কমাতে হবে।
বিকল্প ব্যবস্থা: অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক বর্জন করে পুনব্যবহারযোগ্য (Reuse) পদ্ধতির দিকে যেতে হবে।
বৈশ্বিক চুক্তি: একটি আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন প্লাস্টিক চুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন ও ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
ওএসিডি (OECD) এর মতে, ২০৬০ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার তিনগুণ হতে পারে। এটি রোধে এখনই রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।