Home সারাদেশ লিমন বৃষ্টির স্বপ্নভঙ্গ: ঘাতক রুমমেট গ্রেপ্তার, উদ্ধার খণ্ডিত মরদেহ

লিমন বৃষ্টির স্বপ্নভঙ্গ: ঘাতক রুমমেট গ্রেপ্তার, উদ্ধার খণ্ডিত মরদেহ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: উচ্চশিক্ষার উজ্জ্বল স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। কিন্তু ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) এই দুই মেধাবী ডক্টরাল শিক্ষার্থীর জীবনপ্রদীপ নিভে গেল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে। নিখোঁজের ১০ দিন পর লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার এবং বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নাটকীয় অভিযানে ঘাতক গ্রেপ্তার
এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহকে (২৬) এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করেছে ফ্লোরিডা পুলিশ। লিমনের রুমমেট হিশামকে ধরতে টাম্পার উত্তরের একটি বাড়িতে অভিযান চালায় বিশেষায়িত ‘সোয়াট’ টিম। নিজেকে ঘরে অবরুদ্ধ করে আগ্নেয়াস্ত্রসহ পুলিশের ওপর প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় এই ঘাতক।
হিশাম ইউএসএফ-এর প্রাক্তন ছাত্র হলেও আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত ও চুরির মতো অপরাধের রেকর্ড ছিল।
মৃত্যু নিশ্চিত ও লাশের সন্ধান
তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের নিচ থেকে লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, নাহিদা বৃষ্টির সন্ধান প্রথমে না পাওয়া গেলেও হিশামের বাসা থেকে উদ্ধার করা রক্তের নমুনার ডিএনএ পরীক্ষায় বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, পুলিশ তাকে এই হৃদয়বিদারক সংবাদ দিয়েছে। বৃষ্টির পূর্ণাঙ্গ মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা এখনও চলছে।
স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ
জামিল লিমন ছিলেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের সন্তান এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালে তিনি পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে যান। বড় ছেলেকে ঘিরে বাবার অনেক স্বপ্ন থাকলেও এখন সেখানে কেবলই মাতম।
অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ২০২৫ সালের আগস্টে ফুল স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। ১৬ এপ্রিল শেষবার বাবার সাথে কথা বলার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। মাদারীপুরে তার গ্রামের বাড়িতেও এখন চলছে শোকের মাতম।
নেপথ্যে কী কারণ?
রাসায়নিক প্রকৌশল ও গবেষণায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের অধিকারিণী এই দুই শিক্ষার্থীর অকাল প্রয়াণের কারণ এখনো অস্পষ্ট। ব্যক্তিগত আক্রোশ নাকি কোনো মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা থেকে হিশাম এই নৃশংসতা চালিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।
ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মায়ামির কনস্যুলেট জেনারেল থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
পরবর্তী আপডেটের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মতামত মন্তব্য বক্সে জানান।