বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বাদ
ফরিদুল আলম, ঢাকা: বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে ‘কালিনারি টুরিজম’ বা রন্ধনশিল্প ভিত্তিক পর্যটন। বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এখন কেবল পাহাড় বা সমুদ্র নয়, বরং বাংলাদেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং লোকজ সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্র্যান্ডিং করার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পর্যটন মাস্টারপ্ল্যানেও এই বিষয়টি এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ঐতিহ্যবাহী খাবারের বিশ্বায়ন
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলাগুলোতে দেখা গেছে, বিদেশি দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশের পিঠা-পুলি এবং ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক খাবার। ঢাকাই বিরিয়ানি, চাটগাঁর মেজবানি মাংস, সিলেটের সাতকরা দিয়ে গরুর মাংস কিংবা খুলনার চুইঝাল—এই রন্ধনশৈলীগুলোকে ‘ফুড ডিপ্লোম্যাসি’র অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একজন বিদেশি পর্যটক যখন বাংলাদেশে আসেন, তিনি কেবল দৃশ্য দেখতে চান না, বরং স্থানীয় জীবনযাত্রার স্বাদ নিতে চান। আর সেই জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো আমাদের খাবার।
ব্র্যান্ডিংয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে লোকজ সংস্কৃতি
খাবারের পাশাপাশি বাংলাদেশের লোকজ মেলা, নকশি কাঁথা, পুতুল নাচ এবং বাউল গানকে পর্যটনের প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে আয়োজিত মেলাগুলোতে এখন নিয়মিতভাবে পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। এতে ভাপা, চিতই, পাটিসাপটার মতো পিঠার লাইভ মেকিং সেশন বিদেশি পর্যটকদের দারুণভাবে মুগ্ধ করছে।
কেন রন্ধনশিল্প পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ?
- সাংস্কৃতিক পরিচয়: এটি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরে।
- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ও কারিগরদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
- টেকসই পর্যটন: এর মাধ্যমে গ্রামবাংলার অর্থনীতি সরাসরি উপকৃত হয়।










