Home Second Lead স্বর্ণের দরে বড় পতন, বিনিয়োগকারীদের নজর ডলারে

স্বর্ণের দরে বড় পতন, বিনিয়োগকারীদের নজর ডলারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বাজারে বর্তমানে এক নাটকীয় অস্থিরতা বিরাজ করছে। স্বর্ণের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত ধাতুর দাম আউন্সপ্রতি ১.৫ শতাংশ কমে ৫,০৮২ ডলারে নেমে আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বছরের শুরুতে যে স্বর্ণ ৫,৫০০ ডলারের রেকর্ড গড়েছিল, তার এই আকস্মিক পতন বিশ্ব অর্থনীতির বিদ্যমান চাপের প্রতিফলন।
মূলত মার্কিন ডলার ইনডেক্স সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছানোয় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। যখন ডলার শক্তিশালী হয়, তখন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে স্বর্ণের ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি পায়, যা বাজারে চাহিদার ঘাটতি তৈরি করে।
বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদী মুনাফার চেয়ে ‘ডলার লিকুইডিটি’ বা নগদ অর্থ হাতে রাখাকে অধিক যৌক্তিক মনে করছেন। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর বিষয়ে বিদ্যমান ধোঁয়াশা এই প্রবণতাকে আরও বেগবান করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল সংকট জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার স্পর্শ করায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা তীব্র হয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকার চলাচলে বাধার ফলে সরবরাহ চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এখন স্বর্ণের ঐতিহাসিক নির্ভরতার পরিবর্তে ডলারের তাৎক্ষণিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
স্বর্ণের ভবিষ্যৎ: দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনা বনাম স্বল্পমেয়াদী চাপ
জেপি মরগান এবং গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্বর্ণের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছে। তাদের মতে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই দাম ৬,০০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রমবর্ধমান স্বর্ণের মজুদ দীর্ঘমেয়াদে দাম পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।
তবে ডলারের আধিপত্য বজায় থাকা পর্যন্ত স্বর্ণের বাজারে এই নিম্নমুখী চাপ অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা বেশি। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবসায়ীরা এখন স্বর্ণের চেয়ে ডলারের আশ্রয়েই অধিক স্থিতিশীলতা খুঁজছেন।
বিস্তারিত আরও জানতে ও নিয়মিত আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন ।