আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের বৃহত্তম তেলের খনি হিসেবে পরিচিত ভেনেজুয়েলার ওপর এবার সরাসরি আধিপত্য বিস্তারের পথে হাঁটল আমেরিকা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মাদুরো সরকারের পতনের পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন আমেরিকাকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল উচ্চমানের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করবে।
ট্রাম্পের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ বার্তা ও পরিকল্পনা
সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্টে ট্রাম্প এই মেগা-পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমি জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইটকে অবিলম্বে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছি। এই তেল বিশাল স্টোরেজ জাহাজে করে সরাসরি আমেরিকার বন্দরে আনা হবে।”
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই তেল বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ কোনো ব্যাংক বা ট্রাস্টি নয়, বরং সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
যদিও তিনি দাবি করেছেন, এই অর্থ দুই দেশের জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে, তবে আন্তর্জাতিক মহলে এই ‘সরাসরি নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
পুতুল সরকার নাকি অংশীদারিত্ব?
নিকোলাস মাদুরোকে বন্দী করে নিউ ইয়র্কের আদালতে বিচার শুরু হওয়ার পর, ভেনেজুয়েলার হাল ধরেছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ। তবে সমালোচকরা মনে করছেন, রডরিগেজ প্রশাসন কার্যত ওয়াশিংটনের একটি ‘ছায়া সরকার’ হিসেবে কাজ করছে।
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন:
ভেনেজুয়েলায় এখনই কোনো নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মার্কিন প্রভাব বজায় থাকবে। বাজারমূল্যেই তেল কেনা হবে, তবে তার গতিপথ ঠিক করবে হোয়াইট হাউস।
তেলের রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতি
ভেনেজুয়েলায় প্রায় ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেলের মজুদ রয়েছে। সমালোচকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, মাদুরো সরকারকে উৎখাতের নেপথ্যে আমেরিকার মূল লক্ষ্য ছিল এই খনিজ সম্পদ। ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই জল্পনাকেই যেন আরও উসকে দিল।
ওয়াশিংটন এই একাধিপত্যের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, দক্ষিণ আমেরিকার ভূ-রাজনীতিতে আমেরিকার এই সরাসরি হস্তক্ষেপ বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।